
দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ছয়টিতে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)-এ কে হচ্ছেন প্রশাসক—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পরবর্তীতে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই রাসিকের সম্ভাব্য প্রশাসক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলীয় মহলে আলোচনা তীব্র হয়।
আলোচনায় যেসব নাম
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসক পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট।
বুলবুল এগিয়ে?
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে আছেন। ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হলেও ২০১৩ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হন। তবে বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।
এ বিষয়ে বুলবুল বলেন, কেন্দ্র দায়িত্ব দিলে অভিজ্ঞতার আলোকে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
রিটনকে ঘিরেও জোর আলোচনা
মাহফুজুর রহমান রিটনকেও ঘিরে শক্ত সমর্থন তৈরি হয়েছে। ছাত্রদল ও যুবদল থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন। তরুণ নেতাকর্মীদের মতে, নগর উন্নয়নে নতুন ও গতিশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন।
রিটন বলেন, “আমি রাজশাহী মহানগরবাসীর সেবা করতে চাই। দল আমাকে যোগ্য মনে করলে দায়িত্ব দেবে।”
অন্য সম্ভাব্যরা
মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ বলেন, দল যদি তাকে যোগ্য মনে করে তবে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছেন।
আবুল কালাম আজাদ সুইট জানান, দল যদি তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেয়, তবে তিনিও দায়িত্ব পালনে আগ্রহী।
ওয়ালিউল হক রানা বলেন, দল ও নগরবাসী চাইলে তিনি দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক।
সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি
যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশাসক পদ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। শেষ পর্যন্ত কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করবে দলের হাইকমান্ড।