April 28, 2026, 2:24 pm
শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে বাঁধ ভেঙে প্লাবন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও লামায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত, র‍্যালি ও আলোচনা সভা নাটোরে নলডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহ ডায়াবেটিক সমিতির ৩২তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে পুকুর খননে মিলল প্রাচীন নিদর্শন, এলাকায় চাঞ্চল্য হজ পালনে গিয়ে সৌদি আরবে জামালপুরের শিক্ষকের মৃত্যু জান্নাতুল বাকিতে দাফন সম্পন্ন  ধামরাইয়ে বেইলি ব্রিজের বেহাল দশা: দুর্ঘটনায় আহত বৃদ্ধা, উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান: অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও সুশাসনের গুরুত্ব কালবৈশাখীর তাণ্ডবে সুনামগঞ্জে বিপর্যয়, শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত মানিকগঞ্জে অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ, নিলামে বিক্রি ও জরিমানা

চুয়াডাঙ্গায় আম্র মুকুলের সুবাসে মাতোয়ারা জনপদ বসন্তের বার্তা, ভালো ফলনের আশায় কৃষক

অভয়নগর প্রতিবেদক

উত্তরের হাওয়ায় বসন্তের ছোঁয়া লাগতেই চুয়াডাঙ্গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আম্র মুকুলের মিষ্টি সুবাস। জেলার চারটি উপজেলাতেই এখন গাছে গাছে সবুজাভ-হলুদ মুকুলের সমারোহ। সকাল-বিকেল হালকা বাতাসে ভেসে আসা ঘ্রাণ জানিয়ে দিচ্ছে—মধুমাসের দিন আর বেশি দূরে নয়।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত আমবাগানগুলোতে মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কোলাহলে মুখর পরিবেশ। কৃষকদের মুখে এখন আশার হাসি। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা, দামুড়হুদা উপজেলা, আলমডাঙ্গা উপজেলা ও জীবননগর উপজেলা—সবখানেই আম্র মুকুলে ভরে উঠেছে বাগান ও বাড়ির আঙিনা। বিশেষ করে দামুড়হুদা ও জীবননগরের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলঘেরা আমবাগান এবং সদর ও আলমডাঙ্গার গ্রামীণ অঞ্চলে মুকুলের ঘ্রাণ প্রকৃতিকে করেছে উৎসবমুখর।
স্থানীয় আমচাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা অনুকূলে থাকায় এবং টানা কয়েকদিন রোদেলা আবহাওয়ায় গাছে ভালো মুকুল এসেছে। ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিরিক্ত কুয়াশা না হলে ফলন আশানুরূপ হতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ সময় নিয়মিত বাগান পরিদর্শন, পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ এবং ছত্রাকনাশক প্রয়োগ জরুরি। বিশেষ করে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় বা বৃষ্টিপাত হলে মুকুল ঝরে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে আমচাষের পরিমাণ প্রতিবছর বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার আম সরবরাহ করা হয়। ভালো ফলন হলে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি জেলা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গ্রামীণ জীবনে আম্র মুকুল কেবল ফলনের ইঙ্গিত নয়—এটি ঋতু পরিবর্তনের এক আবেগঘন প্রতীক। বিকেলে আমবাগানে তরুণদের আড্ডা, শিশুদের খেলাধুলা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুকুলের ছবি—সব মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গায় এখন বসন্তের সুবাসে মাতোয়ারা জনপদ। সবকিছু অনুকূলে থাকলে কয়েক মাস পরই জেলার বাজারগুলো সোনালি আমে ভরে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সবার।



ফেসবুক কর্নার