June 24, 2026, 5:09 am
শিরোনাম :
হ্যাটট্রিকের আশায় রোনালদো, বড় লিড নিয়ে বিরতিতে পর্তুগাল আ. লীগের পরিকল্পনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে : ডিএমপি কমিশনার একযোগে ১৬ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র নোয়াখালীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: ৫ লাখ ৭৬ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রস্তুতি মৃত্যুই আমাদের সবার শেষ গন্তব্য: পিয়া জান্নাতুল জুয়া প্রতিরোধে সংসদে বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড জলবায়ু অর্থায়ন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয় পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ যোগ্যরা বঞ্চিত, সুবিধা পাচ্ছেন অযোগ্যরা; তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের অপপ্রচার ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জজুড়ে বিএনপির বিক্ষোভ

জীবিকার তাগিদে স্বপ্ন বুনছেন এক সংগ্রামী নারী আত্মবিশ্বাস ও স্বাবলম্বিতার অনুপ্রেরণার গল্প

অভয়নগর প্রতিবেদক

ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার ব্যস্ত সড়কের পাশে টিনের চালা আর সাধারণ সাজসজ্জায় গড়ে ওঠা ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। বাইরে থেকে দেখলে খুব সাধারণ—কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে আছে এক নারীর দীর্ঘ সংগ্রাম, অদম্য সাহস আর আত্মমর্যাদার গল্প।
এই দোকানের মালিক রিনিয়া বেগম। ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার সামনের সড়কেই তার এই চায়ের দোকান। ছোট্ট একটি কাউন্টার, কাঠের তাকজুড়ে স্থানীয় বেকারির বিস্কুট, চানাচুর ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য; এক কোণে গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা—সব মিলিয়ে সাদামাটা আয়োজন। কিন্তু প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একাই সামলান দোকানের সব কাজ—চা তৈরি, নাস্তা পরিবেশন, হিসাব-নিকাশ—সবই তার হাতে।
স্বামীর মৃত্যুর পর শুরু হয় নতুন লড়াই
প্রায় ২১ বছর আগে, ২০০৫ সালের ১৭ অক্টোবর তার স্বামী মোঃ শাহদাৎ শেখ মারা যান। হঠাৎ করেই নেমে আসে আর্থিক সংকট। তিন মেয়ে ও এক ছেলেসহ পাঁচ সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে।
স্বামীর রেখে যাওয়া ছোট পরিসরের দোকানটিকেই নতুন করে গুছিয়ে জীবিকার পথ হিসেবে বেছে নেন রিনিয়া বেগম। শুরুতে ছিল নানা প্রতিকূলতা, অনিশ্চয়তা আর সামাজিক বাধা। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিশ্রম আর আন্তরিকতায় গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন তিনি।
রিনিয়া বেগম বলেন,
“স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাঁচার জন্যই দোকানটা আবার শুরু করি। এই দোকানের আয়েই সংসার চলে, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচও এখান থেকেই জোগান দিচ্ছি।”
সন্তানের শিক্ষাই তার বড় অর্জন
তার বড় মেয়ে সুরাইয়া ও দ্বিতীয় মেয়ে ফারজানাকে এসএসসি পর্যন্ত পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে ফারিয়া বর্তমানে আলফাডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে মোঃ আরিফ একই কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেছেন।
একজন মা হিসেবে সন্তানের শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি।
গ্রাহকদের আস্থার ঠিকানা
নিয়মিত গ্রাহক ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আলমগীর কবির বলেন,
“আপা অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। আন্তরিকতার সঙ্গে চা বানান। দোকানটাও সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। তাই আমরা নিয়মিত এখানেই আসি।”
দোকানটির অবকাঠামো আধুনিক না হলেও তার পরিশ্রম, সততা ও আন্তরিকতাই মূল শক্তি।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, রিনিয়া বেগমের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলে তারা আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ছোট্ট এই চায়ের দোকান তাই শুধু চা বিক্রির স্থান নয়—এটি এক সংগ্রামী নারীর আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও স্বাবলম্বিতার জীবন্ত



ফেসবুক কর্নার