June 24, 2026, 4:51 am
শিরোনাম :
হ্যাটট্রিকের আশায় রোনালদো, বড় লিড নিয়ে বিরতিতে পর্তুগাল আ. লীগের পরিকল্পনা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে : ডিএমপি কমিশনার একযোগে ১৬ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র নোয়াখালীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: ৫ লাখ ৭৬ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রস্তুতি মৃত্যুই আমাদের সবার শেষ গন্তব্য: পিয়া জান্নাতুল জুয়া প্রতিরোধে সংসদে বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড জলবায়ু অর্থায়ন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয় পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ যোগ্যরা বঞ্চিত, সুবিধা পাচ্ছেন অযোগ্যরা; তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের অপপ্রচার ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানিকগঞ্জজুড়ে বিএনপির বিক্ষোভ

অনুমোদনহীনভাবে খাদ্যপণ্য বাজারজাতের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ ‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’—বৈধ কাগজপত্র নেই, ভ্রাম্যমাণ আদালতের আশ্বাস প্রশাসনের

অভয়নগর প্রতিবেদক

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের লীলার মেলা বাজারে অবস্থিত ‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে—বিএসটিআই অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া চিজ ও ঘি উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গেলে প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
বিএসটিআই অনুমোদন ও লাইসেন্স কোথায়?
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব স্টিকারযুক্ত প্যাকেটে চিজ ও ঘি বিক্রি করছে। তবে পণ্যের মোড়কে বাধ্যতামূলক বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর সনদ চিহ্ন দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করতে হলে বিএসটিআই অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া উৎপাদন ও বাজারজাত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এছাড়া প্রশ্ন উঠেছে—
প্রতিষ্ঠানের বৈধ উৎপাদন লাইসেন্স আছে কি?
মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষার রিপোর্ট কোথায়?
স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে উৎপাদনের প্রমাণ কী?
খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন রয়েছে কি?
এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র প্রকাশ্যে দেখানো হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
ভোক্তারা কি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে?
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কম দামে পণ্য সরবরাহ করে দ্রুত বাজার দখলের চেষ্টা চলছে। তবে কাঁচামালের উৎস, সংরক্ষণ প্রক্রিয়া কিংবা পরীক্ষাগার যাচাইয়ের কোনো স্বচ্ছ তথ্য নেই।
খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দুগ্ধজাত পণ্য যথাযথ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও মান পরীক্ষার বাইরে উৎপাদিত হলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য তা বিপজ্জনক হতে পারে।
সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’-এর মালিক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার বার্তা বিভাগ থেকে ফোন করা হলে প্রতিবেদকের অভিযোগ, তিনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া জানান এবং সংবাদ প্রকাশ করলে “ফল ভালো হবে না” বলে হুমকিমূলক মন্তব্য করেন।
সংবাদকর্মীর পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে। তবে মালিকের আনুষ্ঠানিক লিখিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও আশ্বাস
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন তারা।
একইসঙ্গে বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয়
‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’ প্রকৃতপক্ষে আইন মেনে উৎপাদন করছে, নাকি অনুমোদনবিহীনভাবে খাদ্যপণ্য বাজারজাত করছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তেই স্পষ্ট হবে।
তবে অভিযোগের সব তথ্য ও প্রাথমিক প্রমাণ আমাদের বার্তা বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে এবং অনুসন্ধান চলমান।
আইন সবার জন্য সমান—এখন প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।



ফেসবুক কর্নার