April 27, 2026, 4:03 pm
শিরোনাম :
দিনাজপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে ছাগল বিতরণ, স্বাবলম্বিতার পথে প্রান্তিক পরিবার লামায় মৌচাক ক্রেডিট ইউনিয়নের সিইউডিসিসি কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও সেলাই মেশিন বিতরণ স্বামীকে ‘সাইজ’ করতে মিথ্যা মামলা করলে সরকার পাশে থাকবে না: আইনমন্ত্রী লেন্স যখন শিকারি: মোবাইল সাংবাদিকতা নাকি ডিজিটাল লিঞ্চিং? তৈরি পোশাক খাতে বাড়ছে সংকট, টিকে থাকতে নীতি সহায়তার জোর দাবি দিনাজপুরে কৃষি প্রণোদনায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে মুগডাল বীজ ও সার বিতরণ ভাষানী মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের সংবর্ধনা ও প্রতিনিধি সভা গোয়াইনঘাটে উন্নয়ন কাজে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ঠিকাদার আব্দুস সালাম মোর্শেদ বিরুদ্ধে নেত্রকোনা রাস্তা দখল ও বেহাল অবস্থায় বিপাকে কৃষক, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কুড়িগ্রামে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষে আহত ৬, এলাকায় উত্তেজনা

মোবাইলের নেশায় হারাচ্ছে শৈশব: ঝুঁকিতে ছোট্ট সোনামনিরা

অভয়নগর প্রতিবেদক

ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে মোবাইল ফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ, শিক্ষা, তথ্যপ্রাপ্তি কিংবা বিনোদনের জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার এখন স্বাভাবিক। তবে প্রযুক্তির এই সুবিধা যখন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা বিশেষ করে শিশুদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে অনেক ছোট শিশুর মধ্যেই মোবাইল আসক্তির প্রবণতা বাড়ছে, যা তাদের স্বাভাবিক শৈশব ও বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ব্যস্ত জীবনে অনেক বাবা-মা শিশুদের সাময়িকভাবে শান্ত রাখার জন্য তাদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেন। অনেক সময় শিশু কান্না করলে বা খাওয়াতে সমস্যা হলে মোবাইলে কার্টুন, গান কিংবা গেম চালিয়ে দেওয়া হয়। এতে শিশু কিছু সময়ের জন্য চুপ থাকলেও ধীরে ধীরে তারা মোবাইলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ খেলাধুলা, গল্প শোনা বা পরিবারে সবার সঙ্গে মেলামেশার মতো স্বাভাবিক অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে কমে যায়।
শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনের প্রথম কয়েক বছর একটি শিশুর ভাষা শেখা, চিন্তাশক্তি গড়ে ওঠা এবং সামাজিক আচরণ শেখার গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে অতিরিক্ত মোবাইল বা স্ক্রিনে ভিডিও দেখলে শিশুদের ভাষা বিকাশে বিলম্ব ঘটতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হয় এবং বাইরের পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বই পড়া, ছবি আঁকা, গল্প শোনা, খেলাধুলা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো—এসব কার্যক্রম শিশুদের সৃজনশীলতা ও কৌতূহল বাড়ায়। এমনকি ঘরের সাধারণ জিনিসপত্র দিয়েও শিশুদের বিভিন্ন খেলায় যুক্ত করা যায়, যা তাদের চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তির বিকাশে সহায়ক।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অভিভাবকেরা। শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, গল্প করা, বাইরে খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা এবং মোবাইল ব্যবহারে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সেটিকে নিয়ন্ত্রিত ও শিক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
শিশুরা একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শৈশব যেন মোবাইলের স্ক্রিনে আটকে না যায়, সে জন্য এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। পরিবারের স্নেহ, সময় ও সঠিক দিকনির্দেশনাই পারে ছোট্ট সোনামনিদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।



ফেসবুক কর্নার