March 10, 2026, 8:08 am
শিরোনাম :
লামায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন আমাদের প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করবো না: তারেক রহমান তিন কারণে মনে করা হচ্ছে, নেতানিয়াহু আর নেই ঈদ উপলক্ষে ভোমরা স্থলবন্দরে ১০ দিন বন্ধ থাকবে আমদানি-রপ্তানি পঞ্চগড়ে গ্রামীণ রাস্তার কাজ শেষের আগেই হেলে পড়েছে গাইড ওয়াল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  আজ ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, পাচ্ছেন ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যা, আটক ২ ধারণক্ষমতার তিনগুণ রোগী কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে বেড সংকট, জনবল স্বল্পতা ও ওষুধের ঘাটতিতে বাড়ছে ভোগান্তি জমি বিরোধের জেরে নারী দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ ফল ব্যবসায়ীর

ধারণক্ষমতার তিনগুণ রোগী কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে বেড সংকট, জনবল স্বল্পতা ও ওষুধের ঘাটতিতে বাড়ছে ভোগান্তি

অভয়নগর প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগীর চাপ নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। সীমিত শয্যা, চিকিৎসক ও নার্সের স্বল্পতা, প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি এবং পরিচ্ছন্নতা সংকট মিলিয়ে হাসপাতালটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয়েছে জটিল পরিস্থিতি। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালটির অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ২৫০ হলেও বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ৭৭৭ জন রোগী। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ রোগী এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই বেডের অভাবে অনেক রোগীকে মেঝেতে পাটি বা চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে মেডিসিন, শিশু ও সার্জারি ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার অনুমোদিত পদ রয়েছে ৮০টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৪২ জন। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় জনবলের প্রায় অর্ধেক দিয়েই চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, গাইনী, কার্ডিওলজি, চক্ষু ও ডেন্টাল)সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া জুনিয়র কনসালটেন্ট, রেডিওলজিস্ট ও উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।
হাসপাতালের ১৬ জন সহকারী সার্জনের পদ থাকলেও বর্তমানে একজনও কর্মরত নেই। জরুরি বিভাগেও রয়েছে সংকট। সেখানে ৮ জন ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৪ জন। একই সঙ্গে অ্যানেসথেটিস্ট এবং সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনী) পদে কোনো চিকিৎসক না থাকায় জটিল অপারেশন পরিচালনাতেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
নার্সিং সেবাতেও কিছু ঘাটতি রয়েছে। নার্সিং সুপারভাইজার ৪ জনের বিপরীতে রয়েছেন ৩ জন। সিনিয়র স্টাফ নার্স ১৫৭ জনের বিপরীতে ১৫৫ জন এবং স্টাফ নার্স ১৮ জনের বিপরীতে রয়েছেন ১৭ জন। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ৪০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩১ জন।
সবচেয়ে বেশি সংকট চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। ৪৭ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭ জন। ফলে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগী পরিবহনসহ দৈনন্দিন কাজে চরম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ২০ জন অফিস সহায়কের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ২ জন। স্ট্রেচার বেয়ারার নেই একজনও। এছাড়া ১৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা জানান, বেডের অভাবে অনেক রোগীকেই মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, তার আট মাসের অসুস্থ শিশুকে কয়েকদিন ধরে শিশু ওয়ার্ডের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। কুমারগাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রিয়া আক্তার বলেন, অসুস্থ বৃদ্ধ শ্বশুরকে ওয়ার্ডের ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টকর।
হাসপাতালের নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বাস্তবে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী ভর্তি থাকে, কখনো সেই সংখ্যা হাজারও ছাড়িয়ে যায়। বিকেলে অনেক সময় একজন নার্সকে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগীর দায়িত্ব পালন করতে হয়।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম বলেন, সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহ করা হয় ২৫০ শয্যার হিসাব ধরে। কিন্তু বাস্তবে অনেক বেশি রোগী চিকিৎসা নেওয়ায় ওষুধ প্রায়ই অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্ক ও ইপিআই টিকার সংকট রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল জেলার প্রধান সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সেই তুলনায় হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল বৃদ্ধি না পাওয়ায় দিন দিন রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
তাদের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা না হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



ফেসবুক কর্নার