
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাতক্ষীরা সড়ক বিভাগে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বেলা প্রায় পৌনে ১২টা পর্যন্ত দপ্তরে উপস্থিতির কোনো চিহ্ন মেলেনি নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজের। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক বিভাগের প্রধান কর্মকর্তার কক্ষসহ একাধিক দপ্তর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বেলা ১১টা পার হলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এ সময় অফিসে আসা সেবা প্রত্যাশীরা কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার কুন্ডু জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী জোন অফিসে একটি মিটিংয়ে রয়েছেন। তবে ওই মিটিং সংক্রান্ত কোনো লিখিত নির্দেশনা বা চিঠি তার কাছে নেই বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন এ ধরনের কোনো সভা নির্ধারিত ছিল না। ফলে মিটিংয়ের অজুহাতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষ ফাঁকা ছিল। এমনকি অফিসের সরকারি গাড়িটিও সকাল থেকে দপ্তরে দেখা যায়নি। এ ঘটনায় সরকারি দায়িত্বে অবহেলা ও সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
অফিসে সেবা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী বলেন, “সকাল থেকে বসে আছি, কিন্তু কোনো কর্মকর্তার দেখা নেই। সরকারি বেতন নেন আমাদের সেবা দেওয়ার জন্য, কিন্তু অফিসই যদি না করেন তাহলে আমরা কোথায় যাব?”
সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দায়িত্বে অবহেলার এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন—সাতক্ষীরা সড়ক বিভাগের এই অব্যবস্থাপনা আর কতদিন চলবে।