March 10, 2026, 7:08 pm
শিরোনাম :
র‍্যাবের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত শুরু ভাঙ্গুড়ায় জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন মৌলভীবাজারে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, আটক ২২ সড়ক বিভাগে অনিয়মের অভিযোগ, বেলা ১১টাতেও তালাবদ্ধ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর তাড়াশে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক নিহত রাজশাহীতে প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলা মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার জনপ্রিয় আজমপুর রেলস্টেশন বন্ধের দ্বারপ্রান্তে : সিগন্যাল চুরি ও রহস্যজনক কার্যক্রমে উদ্বেগ পানছড়িতে ভাতাভোগী আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, আটক ২২

অভয়নগর প্রতিবেদক

 

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে র‍্যাব-৭। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালাতে গেলে দুষ্কৃতিকারীরা র‍্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে চারজন র‍্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে চিকিৎসক একজন র‍্যাব সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই হত্যাকাণ্ড সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এটি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরকারি পাহাড় কেটে সেখানে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে এবং পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্যও চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে বৃহৎ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে র‍্যাবের প্রায় ৪০০ সদস্যসহ মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশ নেন। জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশ ও বাহিরের পথগুলোতে তল্লাশিচৌকি বসিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে যৌথবাহিনী।
অভিযান চলাকালে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি এবং ১১টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে অপরাধীদের নজরদারির কাজে ব্যবহৃত ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিডিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলারও উদ্ধার করা হয়। যৌথবাহিনী আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের আস্তানা, অস্ত্র তৈরির কারখানা ও অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারও ভেঙে দেওয়া হয়, যেগুলোর মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত।
অভিযান শেষে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি অস্থায়ী পুলিশ ও র‍্যাব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ যৌথবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



ফেসবুক কর্নার