
হাতিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দুই আসামির মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদের আদালতে গ্রেফতার আসামি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই আদালত অপর আসামি মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। সাকিব উদ্দিনের (২৬) বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড় দাইল গ্রামে। তার বাবার নাম সাহাব উদ্দিন। অপর আসামি নুরুজ্জামান মিঠুর (৩২) বাবার নাম আবুল কালাম, তিনি একই ইউনিয়নের জোড়খালী গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ দুপুরে ভুক্তভোগী ১৭ বছর বয়সী ওই কলেজছাত্রীকে তার বাবা হাতিয়ার তমুরুদ্দি লঞ্চঘাট থেকে ঢাকাগামী ‘ফারহান-০৪’ নামের লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে তুলে দেন। একই সময় অভিযুক্ত সাকিব ও মিঠুও ওই লঞ্চে ওঠে। কিছুক্ষণ পর তারা ভুক্তভোগীর কেবিনে গিয়ে নিজেদের তার বাবার পরিচিত বলে পরিচয় দেয় এবং মোটরসাইকেল কেনার কিছু টাকা নিরাপত্তার জন্য কেবিনে রাখার অনুরোধ করে। সরল বিশ্বাসে ছাত্রীটি তাদের টাকা কেবিনে রাখতে দিলে তারা কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন ভুক্তভোগীকে কুপ্রস্তাব দিলে তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় নুরুজ্জামান মিঠু ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন নিয়ে কেবিনের বাইরে অবস্থান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে রাতের দিকে আবার কেবিনে ঢুকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাকে পুনরায় ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. নাজিম উদ্দিন আল আজাদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং অপরজনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।