March 14, 2026, 1:20 pm
শিরোনাম :
‘সরকারি সুবিধা শুধু বিএনপি নেতারা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে’ পাবনায় অবৈধ তেল মজুত ও বেশি দামে বিক্রি: দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা নিয়ম না মেনেই চলছে ৪১ ক্লিনিক, প্রশ্নের মুখে কুষ্টিয়ার স্বাস্থ্যসেবা মির্জা আব্বাসের দুটি অস্ত্রোপচার হয়েছে, দোয়া চাইলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি গেলেন মামুনুল হক ‘মিরাজের আচরণ গলির ক্রিকেট বয়ের মতো’ এফডিইবি ময়মনসিংহ জেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রাণীনগরের একমাত্র পাখির পল্লী পর্যটন কেন্দ্র এবার ঈদের জন্য প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিল চীন

নিয়ম না মেনেই চলছে ৪১ ক্লিনিক, প্রশ্নের মুখে কুষ্টিয়ার স্বাস্থ্যসেবা

অভয়নগর প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় নবায়নহীন ও লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রমে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নামে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে উপজেলায় গড়ে উঠেছে ৪২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন রয়েছে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স অথবা লাইসেন্স ছাড়াই চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্লিনিক মালিক প্রভাব খাটিয়ে কিংবা সংশ্লিষ্ট মহলকে সন্তুষ্ট রেখে নিয়ম না মেনেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তদারকির অভাব, দক্ষ জনবলের সংকট এবং ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়মিত দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ নার্স, ওটি বয় ও টেকনিশিয়ান দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নেই।
নিয়ম অনুযায়ী, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক পরিচালনার জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সনদ, ভ্যাট নিবন্ধন, পরিবেশ ছাড়পত্র, নারকোটিক পারমিট এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তিপত্রসহ বিভিন্ন অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি প্রতিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অন্তত একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও দুজন টেকনিশিয়ান থাকার নিয়ম রয়েছে। অপারেশন থিয়েটার বা এনেস্থেসিয়া বিভাগেও অনিবন্ধিত চিকিৎসক বা অদক্ষ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে স্থানীয়দের দাবি, ভেড়ামারার প্রায় ৭০ শতাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই। নামমাত্র টেকনিশিয়ান দিয়ে এক্স-রে, ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, সেরোলজি ও হরমোন পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ল্যাব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান শাখার তথ্য অনুযায়ী, ভেড়ামারা উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন রয়েছে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের।
এ বিষয়ে উপজেলা ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল খন্দকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এটি শুধু ভেড়ামারার সমস্যা নয়, দেশের অনেক জায়গাতেই একই অবস্থা।”
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রাখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। তবে সিভিল সার্জন অফিস থেকে এখনো আপডেট তালিকা পাওয়া যায়নি।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবৈধ ও নবায়নহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি



ফেসবুক কর্নার