
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চারা বটতলী এলাকায় অবস্থিত অবৈধ ‘এবিএম’ ইটভাটার অনিয়ম ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের ‘খেয়ে ফেলার’ মতো হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইটভাটার মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী চক্রকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে এবং ফসলি জমির উর্বর মাটি (টপসয়েল) ব্যবহার করে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এবিএম ইটভাটা। সম্প্রতি এসব অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ভাটার মালিকপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশে উসকানিমূলক ভাষায় ‘দেখে নেওয়া’ ও ‘খেয়ে ফেলার’ মতো হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরির অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অবৈধ এই ইটভাটার কারণে একদিকে ব্যাপকভাবে পাহাড় ধ্বংস ও বন উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদকর্মী, সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল। তারা বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বান্দরবানে অবৈধ ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে আলীকদমের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ৮ জন ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে এবিএম ইটভাটার মতো অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর দৌরাত্ম্য এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা