
বিশ্বব্যাপী পাসপোর্ট শক্তিমত্তার সাম্প্রতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়ে ৯৫তম স্থানে নেমে এসেছে। এর আগে দেশটির অবস্থান ছিল ৯৩তম। লন্ডনভিত্তিক বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও রেসিডেন্সি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Henley & Partners প্রকাশিত সর্বশেষ পাসপোর্ট ইনডেক্সে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বা সহজ প্রক্রিয়ায় মোট ৩৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের বার্বাডোজ, ডমিনিকা, গ্রেনাডা ও জ্যামাইকা; আফ্রিকার কেনিয়া, রুয়ান্ডা, সেশেলস ও গাম্বিয়া; এবং এশিয়া ও ওশেনিয়ার ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, ফিজি ও সামোয়া। তবে এসব দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা-ফ্রি, ভিসা-অন-অ্যারাইভাল ও ই-ভিসা—তিন ধরনের ব্যবস্থাই বিদ্যমান, ফলে ভ্রমণ সুবিধা একরকম নয়।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক পাসপোর্ট শক্তির তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও স্পেন শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাসপোর্ট শক্তিমত্তা নির্ধারণে কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক অবস্থান এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক ভিসা চুক্তির সীমাবদ্ধতা, অর্থনৈতিক ইমেজ এবং অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত উদ্বেগ এ অবস্থানের পেছনে প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি উন্নয়নে নতুন ভিসা ওয়েভার চুক্তি সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, পাসপোর্ট সূচকে এই অবনমন শুধু একটি র্যাংকিং পরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও কূটনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন। এ অবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।