সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত গাজী শাহ আলমকে ঘিরে একের পর এক অপকর্মের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শুরু হয়েছে তার ব্যাপক দৌড়ঝাপ। অভিযোগ উঠেছে, নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং প্রশাসনিক নজরদারি এড়াতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার দ্বারস্থ হচ্ছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শাহ আলম তার প্রভাব টিকিয়ে রাখতে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন মহলে বিতরণ করছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার হুমকি দিয়ে সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করারও অভিযোগ রয়েছে। এতে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে, শাহ আলমকে ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তার বিরুদ্ধে মাদক কারবার, অস্ত্র চোরাচালান, জমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটপাটসহ নানা অপরাধের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে প্রকাশ্যে বলে বেড়ান যে, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও তার নিয়ন্ত্রণে—ফলে তার বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিতে পারবে না। এমন বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন শাহ আলম। বিশেষ করে কালিন্দী নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অস্ত্র স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শ্যামনগর থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একই দিনে পরানপুর বাজারে তিনটি দোকানে কোটি টাকার মালামাল লুটের ঘটনাতেও তার সিন্ডিকেট জড়িত বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে তিনি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ লাভ করেন এবং সে সময় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। পরবর্তীতে জেলা জাসাসের একটি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হলেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সেখান থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি যৌথ বাহিনীর অভিযানে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হাবিবুর রহমানকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। তবুও থেমে নেই তার সিন্ডিকেটের কার্যক্রম। যদিও অভিযুক্ত শাহ আলম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে একাধিক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে গেছে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্প্রতি এক বিবাহিত নারীর সাথে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পর শাহ আলমের ব্যক্তিগত অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে, যা তার বিরুদ্ধে জনমতকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শাহ আলম ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।