
ঝিনাইদহের জ্বালানি তেলের বাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলছে। জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গত কয়েকদিন ধরে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ও অতিরিক্ত ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ঝিনাইদহ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় তেলের জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। তবে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, এখন মোটরসাইকেল আরোহীদের আগের মতো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না এবং পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ থাকলেও দাম বাড়ার পর মজুদকৃত তেল বাজারে আসতে শুরু করায় সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
তেল নিতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, “কয়েকদিন আগে যে ভোগান্তি হয়েছে, তা কল্পনাও করা যায় না। এখন লাইন কমেছে ঠিকই, কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। এই স্বস্তি স্থায়ী হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।”
অন্যদিকে, রিকশা ও ইজিবাইক চালকরাও জানিয়েছেন, তেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বাড়তি দামের কারণে যাতায়াত ব্যয় বেড়ে গেছে, যা তাদের আয়-ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মূল্যবৃদ্ধির ফলে যারা তেল মজুদ করেছিলেন তারা এখন তা বাজারে ছাড়ছেন, যার প্রভাবেই সরবরাহ বেড়েছে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কিনা, তা নির্ভর করছে সরকারি তদারকি ও নিয়মিত আমদানির ওপর।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেলের বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা সিন্ডিকেট প্রতিরোধে নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তেলের পাম্পগুলোতে ভিড় কমা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির হলেও, এটি যেন সাময়িক না হয়ে স্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়—এমনটাই প্রত্যাশা ঝিনাইদহবাসীর।