April 28, 2026, 8:18 pm
শিরোনাম :
মানবিক সেবায় যুবদের এগিয়ে আসার আহ্বান: বিডিআরসিএস নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত আলীকদমে মাদকবিরোধী অভিযানে পপি বীজ ও খোসাসহ আটক ১ নারায়ণগঞ্জে রামচন্দ্রী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন জগন্নাথপুর প্রেস ক্লাবের সঙ্গে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁয় অভিযানে ৭০ বোতল ফেনসিডিল সদৃশ সিরাপ উদ্ধার, আটক ১ চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে শিশুকে বাঁচাতে বাবার ঝাঁপ, অল্পের জন্য রক্ষা পিতা-পুত্র কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, মোমবাতির আলোয় চাঁদপুরে এসএসসি পরীক্ষা ভিডিও বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পীরকে ঘিরে তোলপাড়, প্রতারণা না অপহরণ—জটিলতায় তদন্ত দাবি অকাল বৃষ্টিতে নেত্রকোনার হাওরে ধান কাটায় বিপর্যয় মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপে জনদুর্ভোগ, দেবিদ্বারে তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

অকাল বৃষ্টিতে নেত্রকোনার হাওরে ধান কাটায় বিপর্যয়

ফারুক আহমেদ রকি নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে অকাল বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধানক্ষেত, ফলে সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিনেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে এবং জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে কলমাকান্দা, আটপাড়া, মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, জলাবদ্ধতার কারণে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যে সময় কৃষকের ঘরে ধান তোলার কথা, সেই সময়ে তাদের চোখে হতাশা আর উদ্বেগ।
কলমাকান্দার সোনাডুবি ও বাইরা গাঙ্গের খালে পানির তীব্র স্রোতে বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে নাকডরা, সোনাডুবি, মধ্যনগরসহ বিভিন্ন এলাকার বিপুল পরিমাণ ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, তারা নিজেরাই বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছেন।
এদিকে আধুনিক কৃষি যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ থাকলেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। জ্বালানি সংকট, কাদামাটিতে আটকে যাওয়া এবং শ্রমিক সংকট—সব মিলিয়ে ধান কাটার কাজ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
আটপাড়া উপজেলার কৃষক কাঞ্চন মিয়া বলেন, “কিস্তিতে হারভেস্টার কিনে এখন বিপদে পড়েছি। তেল নেই, কাজ করতে পারছি না। নিজের কিস্তির টাকাই জোগাড় করা কঠিন হয়ে গেছে।”
মদন উপজেলার কৃষক রুকেল হাসান বলেন, “হারভেস্টার কিনে লাভের বদলে লোকসান হচ্ছে।”
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৬৪১টি হারভেস্টার থাকলেও বাস্তবে খুব কমসংখ্যক মেশিন সচল রয়েছে। অধিকাংশই পানিতে আটকে বা জ্বালানির অভাবে বন্ধ রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, নিচু জমিতে ধান চাষ না করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাওরাঞ্চলে মাইকিং করে দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার সংগ্রামে নেত্রকোনার হাওরের কৃষকরা এখন কঠিন সময় পার করছেন।



ফেসবুক কর্নার