May 2, 2026, 9:05 pm
শিরোনাম :
রামপালে খালে অবৈধ বাঁধ অপসারণে স্বস্তি, ফিরেছে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ দৌলতপুরে ফায়ার স্টেশন নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা, ঝুঁকিতে জনজীবন আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, কুলাউড়ার পাঁচপীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উদ্বেগ ফতুল্লায় তিন খাল পুনঃখনন উদ্বোধন, অবৈধ দখলদারদের সতর্কবার্তা জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিজয়নগরে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত জ্বালানি সংকটে ঠাকুরগাঁওয়ে চরম দুর্ভোগ, যাত্রীদের সঙ্গে ত্রিচক্রযান চালকদের অসদাচরণের অভিযোগ রাঙ্গামাটিতে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর সফর ঘিরে দলীয় বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সোনারগাঁওয়ে গাঁজাসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

টানা বৃষ্টিতে স্থবির তুরা স্থলবন্দর, বিপাকে কৃষক-শ্রমিক

কে. এম. জাকির রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রৌমারীর তুরা স্থলবন্দর টানা বৃষ্টিতে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। একসময় যেখানে প্রতিদিন পর্যটকদের ভিড়ে মুখর থাকত এলাকা, সেখানে এখন নেমে এসেছে নীরবতা। গত প্রায় ২০ দিনের অবিরাম বর্ষণে পর্যটন, শ্রম ও কৃষি—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো স্থলবন্দর এলাকা। মহাসড়ক এখন অনেকটা ফাঁকা, আর সেই সড়কেই ভুট্টা শুকানোর চেষ্টা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। বৃষ্টির কারণে মাঠ বা বাড়ির আঙিনায় ফসল শুকানোর সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর ত্রিপল বিছিয়ে ফসল সংরক্ষণ করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, “কয়েকদিন আগে ভুট্টা তুলেছি, কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে শুকাতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর রেখে দিচ্ছি। রোদ না উঠলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”
অন্যদিকে, পাথর ভাঙা শ্রমিকদের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তুরা স্থলবন্দরের অন্যতম জীবিকা এই শ্রম খাত, যা বর্তমানে স্থবির। শ্রমিক মো. মাসুদ বলেন, “কাজ বন্ধ থাকায় আয় নেই। একদিন কাজ না করলে আমাদের সংসার চলে না। এখন খুব কষ্টে দিন কাটছে।”
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম সংকটে। স্থলবন্দরের জনপ্রিয় ভাসমান ক্যাফেগুলোতে নেই কোনো পর্যটক। ‘আই লাভ ইউ’ ও ‘জলসিঁড়ি-২’ ক্যাফে কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে খদ্দের না থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। কর্মচারীরাও অলস সময় পার করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈরি আবহাওয়ার কারণেই পর্যটক ও সাধারণ মানুষের আনাগোনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পুরো এলাকায় এখন কেবল বৃষ্টির শব্দ আর নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের আশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে তুরা স্থলবন্দর। তবে দীর্ঘমেয়াদি এ পরিস্থিতি কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।



ফেসবুক কর্নার