
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শেখ হাসিনা সড়ক সংলগ্ন নিচু জমি ও ফসলি জমি কেনাবেচা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে জেলা প্রশাসন। তিতাস নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এ এলাকায় জলাভূমি ও কৃষিজমি ভরাটে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিমরাইলকান্দি-চম্পকনগর অংশে সড়কের দুই পাশে নিচু কৃষিজমিকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা সাধারণ মানুষকে ভবিষ্যতে জমি ভরাট করা যাবে বা প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করা সম্ভব—এমন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে উচ্চমূল্যে জমি বিক্রির চেষ্টা করছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তিতাস নদী রক্ষা ও পরিবেশগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওই এলাকার জলাশয় ও নিচু জমি ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে এ ধরনের জমি কেনাবেচায় জড়িয়ে পড়লে ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—
নিচু জমি বা ধানক্ষেত বালু দিয়ে ভরাট করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে জমি বিক্রির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত দামে জমি বিক্রির ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
প্রতারণার শিকার হলে সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুত লাভের আশায় জমি কিনে রাখা অনেকেই এখন লোকসানের আশঙ্কায় বিক্রির চেষ্টা করছেন।
সচেতন মহল বলছে, অপরিকল্পিতভাবে জলাভূমি ভরাট হলে তিতাস নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হবে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হবে। তাই জমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অসাধু চক্রের প্রলোভনে পড়ে যেন কেউ কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ না করেন। ভূমি দখল ও প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।