March 7, 2026, 9:01 pm

খুলনা মেডিকেলকে কেন্দ্র করে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য: মানহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক বাণিজ্য অব্যাহত

Reporter Name

খুলনা প্রতিনিধি: নূর মোহাম্মদ খান লিটু
দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে শতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। স্থানীয়দের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে চলছে বাণিজ্যিক চিকিৎসা সেবা, যেখানে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয় না।
চিকিৎসার চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে খুলনায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক দ্রুত বেড়েছে। পাশাপাশি গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কিন্তু দালালদের খপ্পরে পড়ে রোগীরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ করা মার্কেটিং অফিসার ও নারী দালালরা রোগীদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি কিছু চিকিৎসকও এই সিন্ডিকেটে জড়িত—রোগীদের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করছে এবং ভিজিটিং কার্ড দিয়ে দিচ্ছে।
অনেক চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার থেকেও কমিশন বাণিজ্য চালাচ্ছেন। সচেতন নাগরিক কমিটি বলছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এই অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
নিবন্ধন ও নবায়ন তথ্য
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা নগরীতে ২৯৮টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধিত। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৮৯টি প্রতিষ্ঠান নবায়ন করেনি, তবুও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অপর্যাপ্ত চিকিৎসক, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও মানহীন যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও, সাধারণত জরিমানাতেই শেষ হয়।
দালালদের সক্রিয়তা
প্রতিদিন সকালে মেডিকেলের বহির্বিভাগে দালালদের আনাগোনা চোখে পড়ে, বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি বেশি। তারা গ্রাম থেকে আসা রোগীদের টার্গেট করে ক্লিনিকে নিয়ে যায়।
নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শুভ জানান, “মেডিকেলের গেটে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে এক নারী ভালো চিকিৎসার কথা বলে আমাকে ক্লিনিকে নিতে চেয়েছিল। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দালাল পালিয়ে যায়।”
মোড়লগঞ্জের জয়নাল আবেদীন জানান, “১০০ টাকায় ভালো চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে আমাকে সুগন্ধা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আনা হয়। সেখানে ৪ হাজার টাকার টেস্ট ধরিয়ে দেয়। পরে ২ হাজার টাকায় এক ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।”
স্বাস্থ্য সেবা বড় বাণিজ্যে পরিণত
খুলনা সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন,
“স্বাস্থ্য অধিদফতরের উদাসীনতায় মানহীন প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয়। সরকারি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসকও প্রভাবিত হচ্ছেন। পিছিয়ে থাকা ও অর্ধশিক্ষিত জনগোষ্ঠীকেই বেশি টার্গেট করা হচ্ছে।”
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মন্তব্য
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক ডা. মো. মজিবুর রহমান বলেন,
“দালালদের বিরুদ্ধে সচেতনতা প্রথম পদক্ষেপ। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং চিকিৎসক-স্টাফদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সচেতন থাকলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসবে।”



ফেসবুক কর্নার