May 5, 2026, 11:47 am
শিরোনাম :
যান্ত্রিকতার চাপে কুড়িগ্রামে হারিয়ে যাচ্ছে পাথরের জাঁতা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আধুনিক আইসিইউ উদ্বোধন পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিক্ষোভ, ১০ নেতার পদত্যাগ ময়মনসিংহে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নবীনগর পৌরসভায় সেবায় ধস: নির্বাহী কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে ভোগান্তি চরমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক প্রেমের ফাঁদে ফেলে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ: ধর্ষক সৌরভ গ্রেফতার জ্বালানি সংকটে স্থবির সোনাহাট স্থলবন্দর, বিপাকে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক মান্দায় দুঃস্থ নারীদের সেলাই মেশিন ও র‍্যাবিস ভ্যাকসিন বিতরণ

অনলাইন জুয়ার ছোবলে রৌমারী: যুবসমাজ বিপথে, ভাঙছে পরিবার

কে. এম. জাকির রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
Oplus_131072

সীমান্তঘেঁষা জনপদ কুড়িগ্রামের রৌমারী একসময় পরিচিত ছিল কৃষি ও নদীভাঙনের জন্য। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই চিত্র বদলে গিয়ে সেখানে নীরবে বিস্তার ঘটেছে অনলাইন জুয়ার। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা কাজে লাগিয়ে বিদেশি বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জুয়া এখন শহর থেকে শুরু করে দুর্গম চরাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
যুবসমাজে ভয়াবহ প্রভাব
স্থানীয় চা-দোকান বা আড্ডাস্থলে এখন কিশোর-তরুণদের হাতে মোবাইল ফোনই প্রধান দৃশ্য। অনেকেই সময় কাটাচ্ছে অনলাইন বাজিতে। সমাজকর্মীদের মতে, এতে তরুণদের মধ্যে দ্রুত ধনী হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে এবং তারা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
স্থানীয় সমাজকর্মী মো. নাজমুল চৌধুরী বলেন, “যুবসমাজ এখন শর্টকাট পথে অর্থ উপার্জনের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। অনেকেই টাকা না পেয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে যাচ্ছে, যা সামাজিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।”
খেটে খাওয়া মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত
শুধু তরুণ নয়, নিম্নআয়ের শ্রমজীবী ও কৃষকরাও এই জুয়ার ফাঁদে পড়ছেন। দিনভর পরিশ্রমের উপার্জন অনলাইন জুয়ার পেছনে ব্যয় করে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকে জমি, গবাদিপশু বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে পরিবারে অশান্তি, দারিদ্র্য ও ভাঙনের ঘটনা বাড়ছে।
আইন প্রয়োগে চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশে প্রচলিত পুরনো জুয়া আইন সরাসরি অনলাইন জুয়ার ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা কঠিন। যদিও ডিজিটাল নিরাপত্তা ও টেলিযোগাযোগ আইনের আওতায় এটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত, তবে প্রান্তিক এলাকায় এর নিয়ন্ত্রণ জটিল হয়ে পড়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, অনলাইন জুয়ার অ্যাপগুলো নিয়মিত পরিবর্তিত হওয়ায় এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উত্তরণের পথ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি
অভিভাবকদের সন্তানের অনলাইন ব্যবহারে নজরদারি
প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ
তরুণদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে রৌমারীর ভবিষ্যৎ আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠবে।
উপসংহার:
অনলাইন জুয়া কোনো দ্রুত সাফল্যের পথ নয়; বরং এটি একটি সমাজ ধ্বংসের নীরব হাতিয়ার। এই ভয়াবহ প্রবণতা রোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসার বিকল্প নেই।



ফেসবুক কর্নার