
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা পড়েছেন চরম সংকটে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার দিনমজুর শ্রমিক, যারা কাজের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দরের বিভিন্ন পাথর ডিপোতে পাথরের স্তুপ জমে থাকলেও পরিবহন সংকটের কারণে সেগুলো সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুতের ঘনঘন আসা-যাওয়ার মধ্যেও সীমিত আকারে কিছু পাথর ভাঙার কাজ চললেও জ্বালানির অভাবে লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অধিকাংশ মেশিন অলস পড়ে আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ফলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়ে বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে পাথরের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ সংকটে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
শ্রমিক হাশেম আলী, আছর উদ্দিন ও আব্দুর রহিম জানান, নিয়মিত কাজ না থাকায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, আগে প্রতিদিন একাধিক ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন তেলের অভাবে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট জহুরুল ইসলাম জানান, আগে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি ট্রাকে পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো, বর্তমানে তা কমে ৪ থেকে ৫টিতে নেমে এসেছে। ট্রাক মালিক আরিফ হোসেন বলেন, একটি ট্রাক তিন দিনেও একটি ট্রিপ সম্পন্ন করতে পারছে না।
আমদানি-রফতানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম বলেন, পাথরের চাহিদা থাকলেও পরিবহন সংকটে বিক্রি কমে গেছে। মেসার্স রুমানা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন ৩৫-৪০টি ট্রাক লোড হতো, এখন তা কমে ১০-১২টিতে নেমে এসেছে।
সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে এ বন্দরে। সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আকমল হোসেন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় ডিপোগুলোতে পাথরের স্তুপ জমে থাকছে।
তবে স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক জানান, এলসি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রতিদিন ভারত থেকে শতাধিক ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করছে। যদিও অভ্যন্তরীণ বাজারে কিছুটা বেচাকেনা কমেছে, তবে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের প্রভাব এখনো পড়েনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সোনাহাট স্থলবন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।