
বরিশালে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত সৈয়দ রাফি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি টিনশেড ঘরের ভেতরে বসে তিনি মাদকসদৃশ বস্তু সেবন করছেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
তবে ভিডিওটির সত্যতা অস্বীকার করেছেন সৈয়দ রাফি। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিপক্ষ তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান রাফি। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে আসেন তিনি। এরপর এলাকায় তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
এলাকাবাসীর দাবি, বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি মুরগির খামার ও মাছের ঘেরকে কেন্দ্র করে তার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অভিযোগ রয়েছে, ওই স্থানকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
এ বিষয়ে চাঁদপুরা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আবদুর জব্বার বলেন, “সে ছাত্রদলের সাবেক নেতা ছিল। তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় আমি নেব না। আমার পৃষ্ঠপোষকতায় সে চলেছে—এ অভিযোগ সঠিক নয়।”
বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম ইমরান বলেন, “বর্তমানে সৈয়দ রাফি ছাত্রদলের কোনো কমিটিতে নেই। ভিডিওটি সত্য প্রমাণিত হলে দায়ভার তাকেই নিতে হবে। মাদকসেবী ও চাঁদাবাজদের দলে কোনো স্থান নেই।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক কারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।