
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গণেশপুর এলাকায় গড়াই নদীর তীররক্ষায় নির্মিত সরকারি বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীররক্ষা প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে আশপাশের স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার ও শতাধিক বসতবাড়ি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ‘গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গণেশপুর এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে পাউবোর কর্মকর্তারা দেখতে পান, বাঁধের অ্যাপ্রন অংশে স্থাপিত জিও-ব্যাগ কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া বালু পরিবহনের জন্য বাঁধের ঢাল কেটে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
পাউবোর তথ্যমতে, এ ঘটনায় স্থানীয় চার ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা হলেন গণেশপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম, রাজাপুর গ্রামের জুয়েল আহমেদ, আজইল গ্রামের জহির উদ্দিন এবং ইব্রাহিম হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্তরা দিন-রাত বালু উত্তোলন করায় বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শামসুর রহমান খোকসা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুল রহমান বলেন, “সরকার নদীভাঙন রোধে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অথচ কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন করছে। এটি অব্যাহত থাকলে পুরো প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।