May 14, 2026, 11:12 am
শিরোনাম :
শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ ইপিজেডে রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে হকার-শ্রমিকরা গর্জনিয়ায় পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নৈশপ্রহরীর মৃত্যু যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: রাঙামাটিতে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে খাদে পড়ার উপক্রম স্কুলবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা শিবচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় স্থবির রৌমারী, ১৮৪ মিমি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন সরকারের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দিতে গুইমারায় তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং ইবি থিয়েটারের নতুন নেতৃত্বে প্রণয় ও জ্যোতি

জনবল সংকটে থমকে রংপুর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা

আলমগীর হোসাইন নিজস্ব প্রতিবেদক কুড়িগ্রাম

রংপুরে প্রায় ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতালটি দীর্ঘ ছয় বছরেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। আধুনিক অবকাঠামো ও উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর নগরীর পুরাতন সদর হাসপাতাল এলাকায় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২০ সালে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। হাসপাতালটিতে শিশুদের জন্য আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা, আইসিইউ ইউনিট, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হলেও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।
২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় হাসপাতালটি অস্থায়ীভাবে করোনা ডেডিকেটেড স্পেশালাইজড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে সময় ১৫ শয্যার আইসিইউসহ প্রায় ৩০টি শয্যা চালু ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আবারও বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালটির কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশাল ভবনে রোগী কিংবা চিকিৎসাসেবার কোনো কার্যক্রম নেই। হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে স্থাপিত ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতিগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালটি চালু করতে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরকারপ্রধানের নির্দেশনার পর হাসপাতালটির প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, “হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় জনবলের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছি।”
এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, শিশু ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে একই শয্যায় একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে হামসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই ১০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা গেলে রংপুর বিভাগের শিশুস্বাস্থ্য সেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ অনেকটাই কমে আসবে।



ফেসবুক কর্নার