
রাঙামাটিতে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী সাইদুল মিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ২ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার গাউসপুর গ্রামের রানু আক্তারের সঙ্গে সাইদুল মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন তিনি।
২০২০ সালের ২২ নভেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে রানু আক্তারকে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন স্বজনরা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদনে গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর নিহতের বাবা চাঁন মিয়া লংগদু থানায় সাইদুল মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর বিচারকার্য শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাকসুদা হক বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে আদালতের এ রায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনায় কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।