May 21, 2026, 3:36 pm
শিরোনাম :
কচ্ছপিয়ায় ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুইজন আটক প্রতারণা মামলায় নিলয় পারভেজ গ্রেপ্তার, পুলিশের হেফাজতে তদন্ত চলছে ময়মনসিংহ নগরীতে ২২ বোতল বিদেশি মদসহ যুবক আটক ময়মনসিংহে গলাকাটা যুবকের লাশ উদ্ধার, এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সরাইলে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৪ তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল চার কিশোর-তরুণের, শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা বাংলাদেশের পাসপোর্টে ফিরছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ নতুন জলছাপ, নতুন বার্তা ও নতুন পরিচয়ে আসছে ই-পাসপোর্ট ক্ষমতা ও প্রটোকল ভুলে বিশেষ শিশু জিয়াদের পাশে জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম ঝিনাইদহে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে আটক তিতাস নদীতে ভেসে ওঠা যুবকের পরিচয় শনাক্ত, ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় মৃত্যু দাবি পুলিশের একটি নৈতিক সংকটে জাতি: প্রতিদিনের দুর্নীতি থেকে বর্বর সহিংসতার পথে

সরাইলে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৪ তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল চার কিশোর-তরুণের, শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা

অভয়নগর প্রতিবেদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চার তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— গলানিয়া গ্রামের মমসার (১৮), উত্তর গলানিয়া পশ্চিমপাড়ার ইমাম হোসেন (১৫), হৃদয় মিয়া (১৫) এবং ধর্মতীর্থ গ্রামের আরমান (১৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গলানিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলী মিয়ার বাড়ির নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে প্রথমে ভেতরে নামেন হৃদয় ও মমসার। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

পরে তাদের খুঁজতে ও উদ্ধার করতে ট্যাংকের ভেতরে নামেন আরমান ও ইমাম হোসেন। কিন্তু ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে চারজনই অচেতন হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে অবহিত করে। সরাইল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ট্যাংকের ভেতর থেকে একে একে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সরাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার রিয়াজ মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সেপটিক ট্যাংকে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

এদিকে একসঙ্গে চার তরুণের মৃত্যুতে গলানিয়া গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর বেদনা ও আতঙ্ক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সেপটিক ট্যাংকে মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড ও কার্বন মনোক্সাইডের মতো প্রাণঘাতী গ্যাস জমে থাকতে পারে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অক্সিজেন সরবরাহ ছাড়া এমন স্থানে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।



ফেসবুক কর্নার