May 22, 2026, 8:55 pm
শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে খাল খননের এস্কেভেটরে আগুন, চাঁদাবাজির অভিযোগ দিনাজপুরের খানপুর পশুর হাটে জমজমাট বেচাকেনা, ঈদের আমেজে মুখর জনপদ জনগণের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে : এ জেড এম জাহিদ হোসেন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নেত্রকোনায় এনজিওর বিরুদ্ধে মামলা, আটক ২ সুবর্ণচরে মিড-ডে মিল নিয়ে অভিযোগ, তদারকি জোরদারের নির্দেশ ৩০০ কোটি টাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এখনো মিলছে না চিকিৎসাসেবা গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহক ভোগান্তি ও শ্রমিক অসন্তোষের অভিযোগ নাসিরনগরে জমজমাট কোরবানির পশুর হাট: বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপচে পড়া ভিড়, চাহিদার শীর্ষে দেশি মাঝারি গরু সীমান্তে বিজিবির বড় সাফল্য ময়মনসিংহ ও শেরপুর সীমান্তে কোটি টাকার চোরাই পণ্য ও ভারতীয় মদ উদ্ধার, আটক ১ আবারও আত্মসমর্পণে ‘ছোট সুমন বাহিনী’, পুনর্বাসনের দাবি বনদস্যুদের

আবারও আত্মসমর্পণে ‘ছোট সুমন বাহিনী’, পুনর্বাসনের দাবি বনদস্যুদের

আরিফ হাসান রামপাল বাগেরহাট

সুন্দরবনে চলমান যৌথ অভিযানের মুখে আবারও আত্মসমর্পণ করেছে কুখ্যাত বনদস্যু ‘ছোট সুমন বাহিনী’। বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাত সদস্য অস্ত্র ও গুলিসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে অস্ত্র জমা দেন আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা।
এ সময় কোস্ট গার্ড, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, বন বিভাগ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সুন্দরবনে বনদস্যু ও জলদস্যু নির্মূলে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। টানা অভিযানের কারণে দস্যু বাহিনীগুলো চাপে পড়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য হচ্ছে।
এর আগে গত ১৭ মে গভীর রাতে মোংলার সুন্দরবনের নন্দবালা খাল এলাকায় সুমন হাওলাদারসহ সাতজন প্রথমে অনানুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হয়।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, ২০১৮ সালেও ছোট সুমন বাহিনী র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে পরবর্তীতে তারা আবারও বনদস্যুতায় জড়িয়ে পড়ে।
আত্মসমর্পণকারী বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার বলেন, “আত্মসমর্পণের পর ব্যবসা করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলাম। কিন্তু নানা হয়রানি ও মামলার কারণে আবার অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়তে হয়। এখন নতুনভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।”
তিনি সরকারের কাছে পুনর্বাসন ও মামলা সহজীকরণের দাবি জানান।
অন্য সদস্যরাও জানান, দীর্ঘদিন বন ও নদীপথে পালিয়ে আতঙ্কের মধ্যে জীবন কাটাতে হয়েছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পরিবার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চান তারা।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন— সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। তাদের মধ্যে ছয়জন মোংলা এবং একজন রামপাল উপজেলার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম বলেন, “সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় সুন্দরবনের সব বনদস্যুকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যথায় কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি জানান, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং একাধিক বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের কবল থেকে জিম্মিদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।



ফেসবুক কর্নার