
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চালু হওয়া মিড-ডে মিল কর্মসূচি ঘিরে খাবার সরবরাহে অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় কর্মসূচির মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সারাদেশে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণচরের ৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫ হাজার ৬৩১ জন শিক্ষার্থীর জন্য গত ৩০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু হয়। কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের ফর্টিফাইড বিস্কুট, বনরুটি, ডিম, ফল ও ইউএইচটি দুধ সরবরাহের কথা রয়েছে। বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক এনজিও ‘স্বদেশ পল্লী’। ফেনীর একটি কেন্দ্র থেকে প্রস্তুত খাবার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
তবে শুরু থেকেই কয়েকটি বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। কোথাও নির্ধারিত সময়ে খাবার পৌঁছেনি, আবার কোথাও সব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। কিছু বিদ্যালয়ে নির্ধারিত খাদ্যতালিকার বাইরে খাবার বিতরণের অভিযোগও উঠেছে।
চরবাটা এম এ কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, শুরুতে খাবার সরবরাহে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। একদিন সন্ধ্যার পরে বনরুটি ও ডিম পৌঁছায়, যা পরদিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। পরে কয়েকদিন সরবরাহ ব্যাহত হয় বলেও জানান তিনি।
একাধিক শিক্ষক বলেন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে নিয়মিত খাবার বিতরণে বিঘ্ন ঘটেছে।
সুবর্ণচর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহে আলম বলেন, “কয়েকটি বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহে সমস্যার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশ পল্লী’র প্রতিনিধি ইয়াসিন আরাফাত জানান, পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহজনিত কিছু জটিলতার কারণে শুরুতে সমস্যা হয়েছিল। বর্তমানে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারাদেশে মিড-ডে মিল কর্মসূচির ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন, খাদ্যের মান যাচাই এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের বা অনির্ধারিত খাবার বিতরণ করা যাবে না। অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মসূচি আরও ইতিবাচক ভূমিকা