June 10, 2026, 8:37 pm
শিরোনাম :
বেড়িবাঁধ রক্ষায় পটুয়াখালীতে জনতার সোচ্চার অবস্থান রাজশাহীতে বিদ্যালয়ে চুরি: প্রধান শিক্ষক-নৈশপ্রহরীর দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ চার জেলার সীমান্তঘেরা পদ্মার চরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ১ নিরাপদ ফল উৎপাদনে ঝিনাইদহকে মডেল জেলা গড়ার প্রত্যয় জেলা প্রশাসকের ঢাকা-সিলেট ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে গেল, নিহত ২ ব্রজলাল কলেজে পরিবেশ সচেতনতায় র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা দিনাজপুরে পার্টনার কংগ্রেস: পুষ্টি ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান ধূমপানমুক্ত সমাজ গঠনে বান্দরবানে সেমিনার ও শিক্ষার্থী সমাবেশ শিক্ষক সংকটে জবির আইইআর, সেশনজটে অনিশ্চয়তায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

দুই বছর বন্ধ এক্স-রে, তবু ফিল্ম কেনায় বরাদ্দ প্রায় ৫ লাখ টাকা

অলি উল্লাহ ভূঁইয়া, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই বছর ধরে এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘কেমিক্যাল রিএজেন্ট (এক্স-রে ফিল্ম ও ইসিজি পেপার)’ খাতে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দের তথ্য সামনে এসেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারটি এক্স-রে মেশিন থাকলেও তিনটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। একটি সচল থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে প্রায় সাত লাখ মানুষের এই উপজেলায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত খরচে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।
সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে করতে সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হলেও বর্তমানে রোগীদের ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয় বেড়েছে।
গত মঙ্গলবার বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগীকে এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হলেও হাসপাতালের সেবা বন্ধ থাকায় তাদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
কামাল্লা গ্রামের মনু মিয়া বলেন, বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক এক্স-রে করতে বলেন। পরে বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ৪২০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।
নবীপুর এলাকার নার্গিস আক্তার বলেন, দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি এক্স-রে সেবা বন্ধ। পরে বাইরে গিয়ে ৪০০ টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালের শুরুতে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেডিওগ্রাফার রেখা রানী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে দুই দিন মুরাদনগরে এসে সেবা দিতেন। পরবর্তীতে তিনি বদলি হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো রেডিওগ্রাফার পদায়ন হয়নি। এরপর থেকেই কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এক্স-রে সেবা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ, সেখানে এক্স-রে ফিল্ম কেনার জন্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা বিষয়টির তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করেছেন।
এদিকে ওষুধ ক্রয়ের টেন্ডার সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, “আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
তবে সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম মানিকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একদিকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, অন্যদিকে এক্স-রে ফিল্ম খাতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বরাদ্দ—এই বাস্তবতায় বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা ও অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি। ফলে মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।



ফেসবুক কর্নার