রাজশাহীতে বিদ্যালয়ে চুরি: প্রধান শিক্ষক-নৈশপ্রহরীর দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন
জাহাংগীর আলম বাগমারা রাজশাহী
Update Time :
Wednesday, June 10, 2026
/
26 Time View
/
Share
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে তালা কেটে ল্যাপটপ, সিসিটিভি সরঞ্জাম, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের কর্মচারীরা বিষয়টি জানতে পারেন।
বিদ্যালয়ের পিয়ন আরিফ হোসেন জানান, সকালে স্কুলে এসে দেখা যায় প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের তালা ভাঙা। পরে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় ল্যাপটপ, ওয়াই-ফাই রাউটার, সিসিটিভির ডিভিআর, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী খোয়া গেছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমের কয়েকটি ট্যাবের মাথাও খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীর মধ্যে নিয়োগ ও বেতন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ কারণে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নৈশপ্রহরী আবুল কালাম দাবি করেন, তিনি ১৮-১৯ বছর ধরে বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো বেতন পাননি। চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রধান শিক্ষক তার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানোর কথা বলে আরও ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবুল কালাম বলেন, “তিন মাস আগে প্রধান শিক্ষক আমাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে আমি আর বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চুরির নাটক সাজানো হতে পারে।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকালে বিদ্যালয়ের এক কর্মচারী ফোনে আমাকে চুরির বিষয়টি জানান। পরে এসে দেখি অফিস কক্ষের তালা ভাঙা এবং বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে। নৈশপ্রহরী বেতন সংক্রান্ত কারণে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল না। বিষয়টি মৌখিকভাবে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পুঠিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আক্তার বলেন, “চুরির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নৈশপ্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তিন মাস ধরে নৈশপ্রহরী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন—এ বিষয়ে আমাকে আগে কেউ অবগত করেনি।”
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, “বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছেন। আমি থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছি। তবে তিন মাস ধরে বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী দায়িত্ব পালন করছেন না—এ তথ্য আগে আমার জানা ছিল না।”
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।