June 10, 2026, 8:04 pm
শিরোনাম :
বেড়িবাঁধ রক্ষায় পটুয়াখালীতে জনতার সোচ্চার অবস্থান রাজশাহীতে বিদ্যালয়ে চুরি: প্রধান শিক্ষক-নৈশপ্রহরীর দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ চার জেলার সীমান্তঘেরা পদ্মার চরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ১ নিরাপদ ফল উৎপাদনে ঝিনাইদহকে মডেল জেলা গড়ার প্রত্যয় জেলা প্রশাসকের ঢাকা-সিলেট ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে গেল, নিহত ২ ব্রজলাল কলেজে পরিবেশ সচেতনতায় র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা দিনাজপুরে পার্টনার কংগ্রেস: পুষ্টি ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান ধূমপানমুক্ত সমাজ গঠনে বান্দরবানে সেমিনার ও শিক্ষার্থী সমাবেশ শিক্ষক সংকটে জবির আইইআর, সেশনজটে অনিশ্চয়তায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

শিক্ষক সংকটে জবির আইইআর, সেশনজটে অনিশ্চয়তায় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

অভয়নগর প্রতিবেদক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর) দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট ও সেশনজটের সমস্যায় জর্জরিত। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় ক্লাস, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইনস্টিটিউটটির ১৬ থেকে ২০ ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় সব শিক্ষার্থীই তীব্র সেশনজটের শিকার। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করছে, সেখানে আইইআরের অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের বহু পরে থেকেও কোর্স সম্পন্ন করতে পারছেন না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মিডটার্ম পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও চূড়ান্ত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। আবার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশেও ছয় থেকে সাত মাস পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে। ফলে চাকরির আবেদন, উচ্চশিক্ষা এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় তারা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। এই সীমিত সংখ্যক শিক্ষককে অনার্স ও মাস্টার্সের একাধিক ব্যাচের অসংখ্য কোর্স পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, চার বছরের একটি কোর্স শেষ করতে যদি ছয় বছর বা তারও বেশি সময় লাগে, তাহলে তাদের কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে ক্লাস সচল রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানান।
এ বিষয়ে আইইআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আজম খান বলেন, শিক্ষক সংকটই বর্তমান সমস্যার মূল কারণ। মাত্র পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে অনার্স ও মাস্টার্সের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। তবে সংকট নিরসনে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইচ উদ্দিন বলেন, আইইআরের শিক্ষক সংকট ও সেশনজটের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। নতুন শিক্ষকের পদ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমাতে জরুরি ভিত্তিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ ও বিশেষ একাডেমিক পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আইইআরের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং তাদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।



ফেসবুক কর্নার