
কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর বিস্তীর্ণ পদ্মা চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ এবং ফসলি জমির দখলকে কেন্দ্র করে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর বাঘা ও পাবনার ঈশ্বরদী এলাকার দুটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
নিহত আজিজুল হক ঝড়ু নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি একটি প্রভাবশালী গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পদ্মা চরাঞ্চলের বালুমহাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মার বিভিন্ন চরাঞ্চলে কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। মঙ্গলবারের সংঘর্ষটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হবির চর থেকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর চর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলি চলে। সংঘর্ষ চলাকালে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংঘর্ষের পর নাটোরের লালপুর উপজেলার চরজাজিরা মৌজা সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে একটি স্পিডবোটে আজিজুল হক ঝড়ুর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল চার জেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে হওয়ায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা নদী থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, চরাঞ্চলে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রাজশাহী রেঞ্জ নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই সংঘর্ষ, দখলবাজি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। তারা এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।