
মাত্র ৯ মাস বয়স। পৃথিবীটাকে ভালোভাবে চিনে ওঠার আগেই চিরবিদায় নিতে হলো ছোট্ট হুবাকে। অসাবধানতাবশত পানিভর্তি একটি বালতিতে পড়ে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এই নিষ্পাপ কন্যাশিশুর। ফুটফুটে শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলার ৪ নম্বর বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মুন্সিরহাট সংলগ্ন দালাল বস্তি গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু হুবা ওই গ্রামের বাসিন্দা হাসিরুল ইসলামের মেয়ে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে গোসল করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় সবার অলক্ষ্যে হামাগুড়ি দিয়ে পাশে রাখা পানিভর্তি একটি বালতির কাছে চলে যায় হুবা। একপর্যায়ে সে বালতির ভেতরে পড়ে যায়। বয়স কম হওয়ায় নিজে থেকে আর উঠে আসতে পারেনি।
কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে বালতির পানিতে ডুবে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবার আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ। স্বজনদের কান্নায় উপস্থিত মানুষের চোখেও নেমে আসে অশ্রু।
ঘটনার খবর পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ হাসপাতালে যায়। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে ঘরে ছোট শিশু থাকলে পানিভর্তি বালতি, টব কিংবা যেকোনো পাত্র উন্মুক্ত অবস্থায় না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, সামান্য অসাবধানতাই কখনো কখনো কেড়ে নিতে পারে একটি নিষ্পাপ প্রাণ। তাই শিশুদের নিরাপত্তায় পরিবারের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সচেতনতাই হতে পারে এমন করুণ মৃত্যুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।