
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের চন্ডিপুর ভুড়োপাড়া মাঠে পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি ফলন্ত তিল ক্ষেতে আগাছানাশক স্প্রে করে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতির দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুর রব।
রোববার (১৪ জুন) সকালে স্থানীয় কৃষকরা মাঠে গিয়ে তিল গাছগুলো পোড়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে কৃষক আব্দুর রবকে খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পান, তার প্রায় তিন বিঘা ফলন্ত তিল ক্ষেতে আগাছানাশক প্যারাকোয়াট ডাইক্লোরাইড স্প্রে করা হয়েছে, যার ফলে পুরো ক্ষেত পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষক আব্দুর রব জানান, তিনি চার লাখ টাকা দিয়ে জমিটি বন্ধক নিয়ে গত চার বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। তার অভিযোগ, চন্ডিপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে আলামিন ওরফে আলাম এবং খোরশেদ আলমের ছেলে হোসাইন গত ১৩ জুন রাতের কোনো এক সময় ক্ষেতে আগাছানাশক স্প্রে করে ফসল নষ্ট করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এর আগেও একই ব্যক্তিরা তার জমিতে কলাইয়ের চারা ট্রাক্টর দিয়ে চষে নষ্ট করেছিলেন। সে সময় থানায় অভিযোগ করা হলে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা হয়।
আব্দুর রবের ভাষ্য, তিন বিঘা জমি থেকে ১৬ থেকে ১৮ মণ তিল উৎপাদনের আশা করেছিলেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
জমির মালিক আবু ছালেক বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দেখেন পুরো তিল ক্ষেত আগাছানাশক স্প্রে করে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তিনিও ঘটনার তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন কৃষকের ঘামঝরা পরিশ্রমের ফসল এভাবে নষ্ট করে দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আলামিন ও হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।