
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম জেলা। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় নয় মাস পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত বছরের ২৬ জুলাই ফটিকছড়ির ভূজপুর এলাকার বাসিন্দা রিনা আক্তার নিখোঁজ হন। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন বিকেলে তাঁকে জোরপূর্বক স্থানীয় আব্দুল মান্নানের টিলায় অবস্থিত একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম দুর্গন্ধ অনুভব করে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করলে গত ৫ আগস্ট মান্নানের টিলার পাশের একটি খাদ থেকে খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহটি রিনা আক্তারের বলে শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভূজপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়। পরদিন মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এসএম রফিকুল ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০ জুন রাতে ফেনী সদর এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি মো. আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন হাটহাজারী থানা এলাকা থেকে মো. রামজান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী বাবার বাড়িতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তদের কবলে পড়েন। তাঁকে একটি ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে টিলার পাশের খাদে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।