August 20, 2026, 2:46 pm

প্রয়োজনে আমরাও নোংরা ফুটবল খেলতে জানি: কিলিয়ান এমবাপ্পে

অভয়নগর প্রতিবেদক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মরণপণ লড়াইয়ে কোনো চোখধাঁধানো বা শৈল্পিক ফুটবল নয়, ফিলাডেলফিয়ার ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের এক দমবন্ধ করা অগ্নিকুণ্ডে স্রেফ ‘কুৎসিত’ আর শারীরিক শক্তি প্রদর্শন করে ম্যাচ বের করে নিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। রোববার (৫ জুলাই) ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছিল লাতিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়ের লাগাতার ফাউল আর উসকানিমূলক শারীরিক ফুটবল। ফরাসিদের মাঠের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক কড়া ট্যাকল, ফাউল এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের চরম বিরক্ত করে যাচ্ছিল প্যারাগুয়ে। কিন্তু সমস্ত উসকানি আর আবহাওয়ার মরণকামড় উপেক্ষা করে দ্বিতীয়ার্ধে কিলিয়ান এমবাপ্পের করা এক পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানের রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লা ব্লুজরা।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের এমন নোংরা ও আগ্রাসী রণকৌশল নিয়ে স্পষ্টতই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে যে এমন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, সেটি আগে থেকেই জানা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম, কী ধরনের ম্যাচ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমার মনে হয়, আজ আমরা মাঠের সেই পরিস্থিতি খুব ভালোভাবেই সামলেছি।’ এরপর প্রতিপক্ষের ছক নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এমবাপ্পে আরও যোগ করেন, ‘ওরা ভেবেছিল আমরা বুঝি টাক্সেডো (আভিজাত্যপূর্ণ ও ভদ্র ফুটবল খেলা অর্থে) পরে মাঠে নামব এবং শুধু চোখধাঁধানো কিছু স্কিল দেখাব। কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রয়োজন হলে আমরাও যে কুৎসিত ফুটবল খেলতে জানি, আজ সেটাই প্রমাণ করেছি।’

মাঠের এই প্রচণ্ড উত্তেজনা সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ম্যাচের দায়িত্বে থাকা উজবেক রেফারি ইলগিজ তানতাশেভকে। পুরো ম্যাচে তিনি মোট ৪টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন, যার মধ্যে ৩টি কার্ডই দেখতে হয়েছে ফরাসি খেলোয়াড়দের। প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়েরা বারবার ফাউল করে ফ্রান্সকে কার্ডের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করলেও, রেফারি কড়া হাতে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেন। শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের সেই ঠান্ডা মাথার স্পট-কিকই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।



ফেসবুক কর্নার