October 9, 2026, 4:25 pm
শিরোনাম :
সড়কের বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মাহমুদা মিতুর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে হত্যা, ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন ইজিবাইকে লিথিয়াম ব্যাটারির পরীক্ষামূলক প্রকল্প, সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের- প্রতিমন্ত্রী।  ভাঙ্গায় বাসে পুলিশের অভিযান ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার যাত্রী স্থানীয়নির্বাচনে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করুন- পীর সাহেব চরমোনাই ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে দেশীয় পিস্তল ও গুলি উদ্ধার চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধন জীবনসঙ্গী হিসেবে ভালো বন্ধু ও ভ্রমণপ্রিয় পাত্র চান মিমি হুথিদের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য ইয়েমেনের প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নয়, কর্মক্ষেত্রে সাফল্যে দক্ষতা জরুরি: ববি হাজ্জাজ

চাকরি ছেড়ে মাশরুম চাষে সফলতার গল্প, ঝিনাইদহের শাহাজালাল এখন অনুকরণীয় উদ্যোক্তা

ফাওজুর রহমান সাবিত, স্টাফ রিপোর্টার:

নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চাকরি ছেড়ে মাশরুম চাষ শুরু করেছিলেন ঝিনাইদহের তরুণ শাহাজালাল। মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে চার বছর আগে শুরু করা সেই উদ্যোগ আজ একটি সফল বাণিজ্যিক খামারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তিনি শুধু নিজেই স্বাবলম্বী নন, বরং চারজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্থানীয় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বাটিকাডাঙ্গা পূর্বপাড়া গ্রামের ফজল জামাদারের ছেলে শাহাজালাল উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোজিনা পারভিনের পরামর্শ ও উৎসাহে চাকরি ছেড়ে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে মাগুরায় মাশরুম চাষের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের অধীনে ১১ দিনব্যাপী ‘অন দ্য জব’ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন পদ্ধতি আয়ত্ত করেন।
প্রথমে মাত্র ২০০টি স্পন প্যাকেট দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় ৫ হাজারটি স্পন প্যাকেট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। প্রতিটি স্পন প্যাকেট থেকে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম মাশরুম উৎপাদিত হচ্ছে।
খামারে উৎপাদিত মাশরুম এখন শুধু ঝিনাইদহ নয়, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ২৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মাশরুম বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে তার মাসিক নিট লাভ থাকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
মাশরুম উৎপাদনের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্পন প্যাকেট ফেলে না দিয়ে সেগুলো থেকে জৈব সার উৎপাদন করছেন শাহাজালাল। এফওয়াইএম (FYM) পদ্ধতিতে তৈরি এই সার প্রতি কেজি ১০ টাকা এবং প্রতি মণ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে একই কাঁচামাল থেকে দুটি পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করছেন তিনি।
বর্তমানে তার খামারটি স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মতো কাজ করছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্রহীরা খামার পরিদর্শনে এসে মাশরুম চাষের কৌশল শিখছেন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।
শাহাজালাল বলেন, “মানুষের কাছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই আমার এই যাত্রা। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি। আধুনিক ইনোকুলেশন ল্যাব স্থাপনের জন্য ‘ল্যামিনার এয়ার ফ্লো’ ও ‘অটোক্লেভ’ মেশিন পেলে উৎপাদন আরও কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।”
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রোজিনা পারভিন বলেন, শাহাজালাল একজন পরিশ্রমী ও দূরদর্শী উদ্যোক্তা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ করেই তিনি সফলতা অর্জন করেছেন। প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পেলে তার মতো উদ্যোক্তারা দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।



ফেসবুক কর্নার