টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত রাঙ্গামাটি, ধীরে ধীরে ফিরছে স্বাভাবিক পরিস্থিতি
সর্বজিৎ চাকমা রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি
Update Time :
Wednesday, July 15, 2026
/
19 Time View
/
Share
৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পর ৬ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হলে জেলা প্রশাসন পর্যায়ক্রমে ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করে। এসব কেন্দ্রে সর্বমোট ৪ হাজার ৩৬৫ জন আশ্রয় নেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিলাইছড়ি, বরকল, কাপ্তাই, কাউখালী, নানিয়ারচর, রাজস্থলী, বাঘাইছড়ি ও রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। দুর্যোগে জেলার বিভিন্ন স্থানে দুইজনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
১২ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি রাঙ্গামাটির জন্য ৫০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঋণের কিস্তি আদায়ে সাময়িক শিথিলতার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনার কথা জানান।
১১ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টিপাত কমতে শুরু করে এবং ১২ জুলাই থেকে আবহাওয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে। এরপর বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হলেও টানা ভারী বর্ষণের পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।
দুর্যোগের শুরু থেকেই রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, কাউখালী, বরকল ও বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারকি করেন। সর্বশেষ ১৪ জুলাই বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাঙ্গামাটিতে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। অধিকাংশ স্থানে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে পানি সরে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বসতঘর, কৃষিজমি ও অবকাঠামোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বাসন, সড়ক মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।