
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ও শতবর্ষী ‘ঘিওর হাট’ বর্ষা মৌসুমে সোনালী আঁশ পাটের বেচাকেনায় এখন প্রাণচঞ্চল। সপ্তাহের নির্ধারিত হাটের দিনে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা ও দেশের নানা প্রান্ত থেকে কৃষক, ব্যাপারী ও পাইকারদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এই ঐতিহাসিক হাট।
বর্ষাকালে নদীপথই হাটে আসার প্রধান মাধ্যম। উপজেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল ও আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত ডিঙি ও কোষা নৌকায় পাট বোঝাই করে কৃষকরা হাটে ভিড় করেন। পাশাপাশি ভ্যান, ইজিবাইক, শ্যালোইঞ্জিনচালিত নসিমন-করিমন ও অটোরিকশায় করেও বিপুল পরিমাণ পাট আনা হয়।
ঘিওর হাট শুধু পাটের জন্যই নয়, উত্তর-মধ্যাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ কৃষিপণ্যের মিলনমেলা হিসেবেও পরিচিত। এখানে সরিষা, ধান, গম, ভুট্টা, হাঁস-মুরগি, কবুতর, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনাবেচা হয়। বর্ষা মৌসুমে নতুন নৌকা কেনাবেচার জন্য আলাদা ‘নৌকার হাট’ও এ বাজারের অন্যতম আকর্ষণ। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্যই এই হাটে পাওয়া যায়।
বাচামারা চরাঞ্চলের ৭০ বছর বয়সী কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই হাটে আসছি। আমার বাপ-দাদারাও এখানে বেচাকেনা করতেন। শুনেছি ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই হাট বসছে। এখানে একসঙ্গে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়, তাই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও পাইকাররা নিয়মিত আসেন।”
স্থানীয় হাট ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নদীপথের সুবিধার কারণে ঘিওর হাটের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। পণ্যের মান ও ন্যায্যমূল্যের কারণে ঢাকা, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বড় বড় পাইকাররা নিয়মিত এখান থেকে বিপুল পরিমাণ পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সংগ্রহ করেন।
ঐতিহ্য, বাণিজ্য এবং প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে ঘিওরের এই প্রাচীন হাট আজও মানিকগঞ্জের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।