ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে দীর্ঘ আড়াই বছর কারাভোগের পর পাঁচ বাংলাদেশি নারী অবশেষে নিজ দেশে ফিরেছেন। দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পন্ন আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা নারীদের অধিকাংশই জীবিকার সন্ধানে কিংবা বিভিন্ন প্রলোভনের শিকার হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। তবে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন তারা। পরে আদালতের নির্দেশে বিভিন্ন কারাগারে আড়াই বছর কারাভোগ করেন।
সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের বেনাপোল চেকপোস্টে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে। এ সময় বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের পরিচয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশে ফেরার পর তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেক নারী ও তরুণ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেন। পরে তারা বিদেশে আটক, কারাভোগ কিংবা মানবপাচারের শিকার হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দেশে ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সময়ে সময়ে কারাভোগ শেষ হওয়া বা অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের উভয় দেশের সমঝোতার ভিত্তিতে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়ে থাকে। এ ধরনের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।