
প্রতিবেদক: ইকরামুল ইসলাম, শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি
শীতের আগমনী হাওয়ায় আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে ফুলের রাজধানী যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী ও পানিসারা অঞ্চল। মাঠজুড়ে রঙিন ফুলের চারা, কুয়াশা ভেদ করে ব্যস্ত চাষিরা, চারদিকে ছড়িয়ে আছে ফুলের গন্ধ আর উৎসবের আমেজ। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফুলের মৌসুমকে সামনে রেখে চলছে বীজতলা তৈরি, জমি পরিচর্যা ও আগাছা পরিষ্কারের ব্যস্ততা। আসন্ন বিজয় দিবস, নববর্ষ ও ভালোবাসা দিবসের বাজার ধরাই এখন চাষিদের মূল লক্ষ্য।
এ মৌসুমে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, জারবেরা, জিপসি ও চন্দ্রমল্লিকার পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে টিউলিপ চাষ করে চমক দেখিয়েছেন কয়েকজন চাষি। টিউলিপ চাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, “টিউলিপ মূলত শীতপ্রধান অঞ্চলের ফুল, কিন্তু গদখালীর অনুকূল মাটি ও ঠান্ডা আবহাওয়া এ ফুল চাষে আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে।” স্থানীয় কৃষিবিদরা বলছেন, গদখালী হতে পারে বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক টিউলিপ চাষের কেন্দ্র।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির তথ্যমতে, যশোর অঞ্চলে প্রায় ৭ হাজার চাষি ১২ শতাধিক হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করেন, যা দেশের মোট ফুলের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ সরবরাহ করে। গদখালী ফুলবাজারে প্রতিদিন কোটি টাকার ফুল বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, “প্রায় ৬৪০ হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ হয়েছে, যেখানে বিদেশি ফুলও পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে শীতের শুরুতেই গদখালীর মাঠজুড়ে ফুটছে নতুন আশার ফুল—যার মাঝে টিউলিপের পাপড়ি যেন লিখে দিচ্ছে বাংলাদেশের ফুলচাষে এক নতুন অধ্যায়।