August 29, 2026, 6:50 am
শিরোনাম :
এআই ব্যবহারে মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না: প্রধান বিচারপতি রামুতে প্রবাসীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চট্টগ্রামসহ চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত কারিনার প্রেমে পড়তেই সাইফকে কেন সাবধান করেছিলেন অক্ষয়? টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ, ১৭ শিশু-কিশোর পেল বাইসাইকেল মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১৫ জনের কারাদণ্ড মির্জা ফখরুলকে পুতিনসহ ৭ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের অভিনন্দন ‘আমার মানুষগুলো শুধু আমার টাকাই চেয়েছিল’, আক্ষেপ শাকিলার খেলাফত মজলিসের সাবেক মহানগর সেক্রেটারির ইসলামী আন্দোলনে যোগদান মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যাকাণ্ড: আসকের তথ্যানুসন্ধানে উঠেছে নানা প্রশ্ন

অভয়নগর প্রতিবেদক

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধান করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটির দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ২৪ ও ২৫ আগস্ট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী, অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্য, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশ, থানা কর্তৃপক্ষ, মর্গ ও হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আসক। তথ্যানুসন্ধানে পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক ব্যাখ্যার সঙ্গে স্বজনদের বক্তব্য এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে কয়েকটি প্রশ্ন ও অসংগতি সামনে এসেছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের সময়, মোবাইল ফোনের তথ্য, ঘটনাস্থলের ফরেনসিক আলামত এবং অভিযুক্তদের কথিত গতিবিধি আরও যাচাইয়ের প্রয়োজন বলে মনে করছে সংস্থাটি।
নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী আসককে জানান, ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বোনের সঙ্গে শেষ কথা হয়। এরপর ২১ আগস্ট রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রীতিলতার নম্বর থেকে তার কাছে একটি ফোন আসে, যা তিনি ধরতে পারেননি। পুলিশ যে সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাক্রম বর্ণনা করেছে, ওই ফোনকলের সময়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী—তা কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), মোবাইল লোকেশন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে আসক উল্লেখ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ছাদে ইয়াবা সেবন নিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর সঙ্গে বিরোধের পর পরিবারটির চার সদস্যকে হত্যা করেন এবং পরে ঘটনাটিকে ডাকাতির মতো দেখানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ আরও দাবি করেছে, হত্যার পর অভিযুক্তরা কিছু সময় বাড়িতে অবস্থান করেন। আসকের মতে, এ দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ঘর, বাথরুম, খাবারের পাত্র, দরজা-জানালা, আসবাবসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, চুল, ত্বকের কোষসহ অন্যান্য ফরেনসিক আলামতের পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আসকের তথ্যানুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সিসিটিভি ক্যামেরায় উপস্থিতি ধরা পড়ার আশঙ্কায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কখন, কীভাবে এবং কারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল এবং এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা প্রযুক্তিগত আলামতের মাধ্যমে যাচাই প্রয়োজন। অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরাও ঘটনার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মর্গসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যে মরদেহগুলো পচনশীল অবস্থায় থাকার কথা এবং শরীরের কিছু অংশে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উঠে এলেও আসক বলেছে, মর্গকর্মীর পর্যবেক্ষণকে চূড়ান্ত চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক মতামত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মৃত্যুর কারণ, আঘাতের ধরন এবং সম্ভাব্য সহিংসতার বিষয়ে ময়নাতদন্ত, রাসায়নিক পরীক্ষা ও অন্যান্য ফরেনসিক প্রতিবেদনের ফলই অধিক নির্ভরযোগ্য। সংস্থাটির মতে, অভিযোগ, পুলিশি বক্তব্য ও বিভিন্ন পক্ষের দাবি—সবকিছুকে নিরপেক্ষ আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।



ফেসবুক কর্নার