September 7, 2026, 1:01 pm

হস্তান্তর বিলে শরিয়াহ অক্ষুণ্ন রাখার দাবি

আনোয়ার হোসেন

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এ মুসলমানদের পারিবারিক ও সামাজিক বিধিব্যবস্থার পাশাপাশি শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধানসমূহের প্রতিফলন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দলের খাস কমিটির বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। দলের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারীসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জমিয়ত নেতারা বলেন, বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতার নিরাপত্তা, চিকিৎসা, ভরণ-পোষণ ও সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করা সন্তানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। প্রবীণ পিতা-মাতার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগ প্রশংসনীয় বলেও তারা উল্লেখ করেন। তবে তাদের মতে, মুসলমানদের সম্পত্তি বণ্টন, উত্তরাধিকার, হেবা ও মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়গুলো ইসলামী শরিয়াহর বিধানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই নতুন কোনো আইন বা এর কোনো ধারা যেন কোরআন-সুন্নাহ নির্ধারিত মিরাস ও হেবার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পিতা-মাতার জীবনকালীন অধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি শরিয়াহসম্মত সম্পত্তির মালিকানা ব্যবস্থায় যেন অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
জমিয়ত নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিলটি চূড়ান্ত করার আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতি, ফকিহ, আলেম ও ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ শরিয়াহ বোর্ডের মাধ্যমে বিলটির প্রতিটি ধারা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনারও দাবি জানান তারা। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, পিতা-মাতার অধিকার ও প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য মিরাস, হেবা ও সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। মানবিক ও সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে ধর্মীয় বিধানগুলোর সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে আইনটি প্রণয়ন করা হলে তা সংশ্লিষ্ট সবার কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য হবে বলে তারা মনে করেন



ফেসবুক কর্নার