
মায়াতে ইসলামীর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান বলেছেন, দলটি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সঙ্গে রাজনীতি করেছে। অথচ বর্তমানে জামায়াতের নেতারা এমনভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন, যেন অতীতে তাঁরা কোনো দলের সঙ্গে ছিলেন না। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চাপরাইলে আবু বক্কর বিশ্বাস মকসেদ আলী কলেজে মাদক, আত্মহত্যা, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, যৌতুক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, জামায়াত অতীতে এরশাদের শাসনামলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে রাজনীতি করেছে, বিএনপির সঙ্গে জোট করে মন্ত্রিত্বের অংশীদার হয়েছে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গেও দলটির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, জামায়াতের আমির কখনো মিথ্যা বলেননি—এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, রাজনৈতিক নেতাদের ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে হিসেবে উপস্থাপন না করে ভুল স্বীকার ও সংশোধনের মানসিকতা থাকা উচিত। জামায়াতের কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যে আমিরকে বিশেষ আধ্যাত্মিক মর্যাদায় তুলে ধরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের আমিরের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং একাত্তরে দলটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, আমির একসময় জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় আসা উচিত। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকার জন্য জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে কি না, সে প্রশ্নের জবাবও দলটিকে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ। এ সময় স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।