October 9, 2026, 2:25 pm
শিরোনাম :
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে হত্যা, ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন ইজিবাইকে লিথিয়াম ব্যাটারির পরীক্ষামূলক প্রকল্প, সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের- প্রতিমন্ত্রী।  ভাঙ্গায় বাসে পুলিশের অভিযান ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার যাত্রী স্থানীয়নির্বাচনে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করুন- পীর সাহেব চরমোনাই ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বিজিবির অভিযানে দেশীয় পিস্তল ও গুলি উদ্ধার চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধন জীবনসঙ্গী হিসেবে ভালো বন্ধু ও ভ্রমণপ্রিয় পাত্র চান মিমি হুথিদের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য ইয়েমেনের প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নয়, কর্মক্ষেত্রে সাফল্যে দক্ষতা জরুরি: ববি হাজ্জাজ রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮০

ঝিনাইদহে খাবার সংকটে বিপন্ন কালোমুখো হনুমান

অভয়নগর প্রতিবেদক

একসময় এলাকায় প্রচুর ফলজ ও বনজ গাছ থাকায় খাবারের অভাব ছিল না। কিন্তু গাছপালা কমে যাওয়া, বাগান উজাড় হওয়া ও মানুষের আনাগোনা বাড়ায় এখন খাবারের সংকটে পড়েছে তারা। তাই কখনো লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, আবার কখনো এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
এক ডাকেই ছুটে আসে শত শত কালোমুখো হনুমান। এমন দৃশ্য দেখা যায় ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামে। সরেজমিনে গেলেই দেখা যায়, গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় হনুমানগুলো গাছে, বাড়ির ছাদে বা মানুষের পাশে বসে সময় কাটাচ্ছে।
একসময় এলাকায় প্রচুর ফলজ ও বনজ গাছ থাকায় খাবারের অভাব ছিল না। কিন্তু গাছপালা কমে যাওয়া, বাগান উজাড় হওয়া ও মানুষের আনাগোনা বাড়ায় এখন খাবারের সংকটে পড়েছে তারা। তাই কখনো লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, আবার কখনো এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
স্থানীয় যুবক নাজমুল হোসেন প্রতিদিন নিজ উদ্যোগে সরকারি বরাদ্দের খাবার পৌঁছে দেন। তবে তিনি জানান, বরাদ্দকৃত খাবার অপ্রতুল। এতে শতাধিক হনুমান একবেলা ঠিকমতো খেতে পারছে না। তিনি আরো বলেন, ডাক দিলেই হনুমানগুলো ছুটে আসে। এখন তারা মানুষের কাছে পরিবারের মতোই কাছের হয়ে গেছে।
প্রতিদিন নানা জেলা থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। শিশু থেকে বড়, সবাই মুগ্ধ হনুমানদের দেখে। তবে খাবারের অভাব ও অরক্ষিত পরিবেশে কখনো কখনো হনুমান আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়রা জানান, কালোমুখো হনুমান রক্ষায় তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ, পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ, শিকারি প্রাণীর হাত থেকে সুরক্ষা এবং স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এছাড়া সরকার ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণা এবং খাবারের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। যাতে তারা খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে না আসে এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত না হয়।
ঝিনাইদহ জেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন বিভাগ প্রতিদিন বাদাম, কলা ও সবজি দিচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। হনুমানগুলো শুধু ভবনগর গ্রামে থাকে। জেলায় বন না থাকায় তাদের জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণার সুযোগ নেই।
বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ভবনগরে বর্তমানে দুই শতাধিক কালোমুখো হনুমান আছে। একসময় এ সংখ্যা বর্তমানের দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। প্রাকৃতিক আবাসের ধ্বংস, খাবারের সংকট ও মানবসৃষ্ট বৈরী পরিবেশে তাদের সংখ্যা দ্রুত কমছে।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে বিরল প্রজাতির হনুমান হারিয়ে যাবে। এতে এলাকার জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সুপরিকল্পিত সংরক্ষণ, খাবারের স্থায়ী ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা জরুরি।



ফেসবুক কর্নার