March 12, 2026, 5:10 am
শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসনের অভিযানে দুই অবৈধ ইটভাটা ধ্বংস, জরিমানা ২ লাখ ৫০ হাজার পাবনায় টিআর প্রকল্পে ৩ লাখ টাকার রাস্তাই নেই, অনিয়মের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইরানে হামলা করার মতো ‘আর কিছুই নেই’, যুদ্ধ শেষ শিগগিরই পুরো অঞ্চল পোড়ার আগেই ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে: এরদোয়ান দোয়ারাবাজারে নিখোঁজ রাজিবের ১৮ মাস পর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন ভারত থেকে পাইপলাইনে ৫ হাজার টন ডিজেল পৌঁছালো পার্বতীপুরে বাংলাদেশ চায় ভোট, সমরাস্ত্র বিক্রিতে জোর দিতে পারে তুরস্ক খাগড়াছড়িতে ঋণের হতাশায় ব্যবসায়ী যুবকের আত্মহত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষি জমি ও ডোবা ভরাটে ৪ ড্রেজার ও ২ হাজার ফুট পাইপ বিনষ্ট, জরিমানা ৪০ হাজার নন্দীগ্রামে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা সুলতানের পাশে ইউএনও শারমিন আরা

ফলো-আপঃ শীতার্তদের কম্বল কেলেঙ্কারি আশাশুনিতে তদন্তের দাবি জোরালো, নথি ও হিসাব নিয়ে উঠছে নতুন প্রশ্ন

মুজাহিদ

শীতার্ত মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল বিতরণে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আশাশুনি উপজেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দফায় উত্থাপিত অভিযোগের পর এবার সামনে আসছে নতুন তথ্য ও হিসাবের অসঙ্গতি, যা পুরো প্রকল্পটির স্বচ্ছতা নিয়ে আরও বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ঘোষিত সংখ্যার তুলনায় কম কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত শীতার্তরা কম্বল না পেলেও তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের নাম দেখানো হয়েছে বিতরণপ্রাপ্ত হিসেবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান,
“আমাদের ইউনিয়নে কাগজে ৭৫টি কম্বল দেখানো হলেও বাস্তবে এত কম্বল দেওয়া হয়নি। আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে এড়িয়ে যাওয়া হয়।”
তদন্তে জানা গেছে, কম্বলগুলো খুলনার নিকসন মার্কেটের একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয়ের কথা বলা হলেও, স্থানীয়ভাবে ওই মানের কম্বল অর্ধেকেরও কম দামে সহজলভ্য। অভিযোগ উঠেছে, বাজার যাচাই না করেই পূর্বনির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে অতিরিক্ত দামে কম্বল ক্রয় দেখানো হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, “একই মানের কম্বল আমরা ২২০–২৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি করছি। সেখানে ৪৪১ টাকা দেখানো সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক।” নথিপত্রে মিলছে না হিসাব। সরকারি বরাদ্দ, প্রকৃত বিতরণ ও দেখানো ক্রয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখলে কয়েক লক্ষ টাকার গরমিল স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই অনিয়ম প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অজান্তে হওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে একাধিক সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কিছু ভাউচার ও বিল যাচাই করলে প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
এত গুরুতর অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্পষ্ট বক্তব্য না পাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য না পাওয়াকে অনেকেই রহস্যজনক বলে মনে করছেন। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, “শীতার্ত মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ শুধু দুর্নীতি নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়ভাবে সামাজিক আন্দোলনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও ভাবছেন স্থানীয়রা। আশাশুনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম এই প্রতিবেদকের মোবাইল নাম্বার ব্ল্যাকলিস্টে রাখার কারণে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।



ফেসবুক কর্নার