
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ভাষা শহীদ আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজন করেছে ‘সাতক্ষীরা জেলা আনোয়ার হোসেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি’।
সোমবার সকাল ১০টায় আশাশুনি-সাতক্ষীরা সড়কের বুধহাটা বাজার সংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি সচ্চিদানন্দ দে সভার সভাপতিত্ব করেন এবং হাসান ইকবাল মামুন এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস কে হাসান, মো. আজারুল ইসলাম, আব্দুল কালাম ও আরাফাত ইসলাম ডেনিসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা জানান, ভাষা শহীদ আনোয়ার হোসেন বুধহাটা গ্রামের সন্তান। ১৯৩০ সালে তাঁর জন্ম। শৈশবে বুধহাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং পরে খুলনা জেলা স্কুল ও বিএল কলেজে অধ্যয়নকালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেন।
বক্তারা বলেন, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ খুলনার তৎকালীন গান্ধী পার্কে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ইশতেহার পাঠের পর গ্রেপ্তার হন আনোয়ার হোসেন। ১৯৪৯ সালে আবারও গ্রেপ্তার হন এবং রাজশাহী কারাগারে পাকিস্তান সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী কারাগারের খাপড়া ওয়ার্ডে গুলিবর্ষণে সাতজন কারাবন্দি নিহত হন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, মাতৃভাষা রক্ষায় তাঁর আত্মত্যাগকে দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবী করেন:
আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া।
আশাশুনি সরকারি কলেজের নামে তাঁর নামকরণ।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাঁর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ।
সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়ক তাঁর নামে নামকরণ।
বক্তারা আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আত্মত্যাগের ঘটনাগুলোও সমান গুরুত্ব পেতে হবে। আনোয়ার হোসেনের আত্মদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ ও পূর্ণতা