
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় সামাজিক বনায়নের প্রায় অর্ধশত গাছ উধাও হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে গোপালপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের পাশের প্রায় ৫০টি গাছ রাতারাতি কেটে বিক্রি ও পাচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি সম্পত্তির বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি সচেতন মহলের।
কর্তনকৃত গাছের মধ্যে রেইনট্রি, গামারি ও একাশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ঘোনাপাড়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়েছে। প্রতিটি গাছ মাটি থেকে প্রায় দুই ফুট অংশ রেখে কাটা হয়েছে, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত করাত ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু গাছ ব্যবসায়ী ও স মিল মালিক দিন-রাতের সুযোগে গাছ কেটে ভ্যান ও ট্রলিতে করে সরিয়ে নিচ্ছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-এর কিছু কর্মী বিদ্যুৎ লাইনের অজুহাতে গাছের ডালপালা কাটার পাশাপাশি বড় গাছও কাটছে। তবে কাশিয়ানী জোনাল অফিসের ডিজিএম (কারিগরি) প্রকৌশলী কামাল হোসেন দাবি করেন, তারা কেবল লাইনের ডালপালা ছাঁটাই করেছেন, বড় গাছ কাটেননি। অন্যদিকে গোপালগঞ্জ জেলা বন কর্মকর্তা বিবেকানন্দ মল্লিক বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, বন বিভাগের দায়িত্বে থাকা এসব গাছ কীভাবে কাটা হলো এবং কেন এখনো দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা মহাসড়কের দু’পাশে সবুজ পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।