
সাতক্ষীরায় হানি ট্রাপ চক্রের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত একাধিক মামলার আসামি কাদের-রিমা গং প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও তাদের গ্রেপ্তার না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, মামলা দায়েরের প্রায় ছয় মাস পার হলেও আসামিরা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলায় মামলার বাদিকেই হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হান্নান সরকার জানান, তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির আঞ্চলিক কর্মকর্তা। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে সাতক্ষীরায় ডেকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে মারধর ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল কাদের, শারমিন আক্তার রিমা, আনোয়ার হোসেন, সিরাজুল ইসলাম মিন্টু, কথিত সাংবাদিক ফজর আলীসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ও আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে কৌশলে ফাঁদে ফেলে ভিডিও ধারণ করে অর্থ আদায় করে থাকে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে শহরের কাটিয়া, কামাননগর, পলাশপোলসহ কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার কাঠিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) পিংকু মন্ডলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে মামলার তদন্তের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে এখনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ স্থানীয় সচেতন মহল।