ব্যাংক খালি, ফুটপাত পূর্ণ: নতুন নোটের ‘উৎস’ নিয়ে প্রশ্ন
অতনু বিশ্বাস
Update Time :
Monday, March 9, 2026
/
16 Time View
/
Share
ঈদুল ফিতরসহ বড় উৎসবের আগে নতুন নোট সংগ্রহ সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও নতুন নোট পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকের কাউন্টারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও নতুন নোট মিলছে না, অথচ ব্যাংকের কাছেই ফুটপাতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নতুন টাকার বান্ডিল। এতে নতুন নোটের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত কাউন্টার বা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শাখায় গিয়ে অনেক গ্রাহকই ‘স্টক নেই’ শুনে ফিরে আসছেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত নতুন নোট না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে ব্যাংকের কাছাকাছি ফুটপাতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সেখানে পাঁচ, দশ, বিশ, পঞ্চাশ ও একশ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল নিয়ে বসে আছেন মৌসুমি বিক্রেতারা। তবে এই নোট কিনতে হলে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ‘প্রিমিয়াম’। নোটের মান ও চাহিদা অনুযায়ী প্রতি ১০০ টাকার বান্ডিলের জন্য ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।
এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে—ব্যাংক যেখানে নতুন নোট নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে, সেখানে ফুটপাতে বিক্রেতারা এত নতুন নোট পাচ্ছেন কোথা থেকে? সংশ্লিষ্টদের ধারণা, একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অনিয়ম চলছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত নোট কালোবাজারে চলে যাচ্ছে। আবার প্রভাবশালী ব্যক্তি বা বড় গ্রাহকদের নামে বরাদ্দ হওয়া নোটও অনেক সময় সাধারণ মানুষের হাতে না গিয়ে বিভিন্ন হাত ঘুরে ফুটপাতে পৌঁছে যাচ্ছে।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট সময় অন্তর নতুন নোট বাজারে ছাড়ে এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু সেই নোট যদি ব্যাংকিং চ্যানেল এড়িয়ে ফুটপাতে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হয়, তবে তা শুধু নীতিগতভাবেই ভুল নয়, বরং একটি বড় ধরনের অনিয়ম।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নোটের এই সংকট অনেকাংশেই কৃত্রিম। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এই সমস্যা কমানো সম্ভব। তারা মনে করেন, এনআইডি বা ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে নতুন নোট বিতরণ করা গেলে অনিয়ম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।
সাধারণ মানুষের দাবি, নতুন নোট বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।