
দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে নগদ টাকার প্রবাহ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত ‘উইকলি ইকোনমিক ইনডিকেটরস’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মানুষের হাতে থাকা নগদ টাকার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা বেড়েছে। শতাংশের হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাজারে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, নগদ টাকার এই অস্বাভাবিক প্রবাহ দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক খাতের প্রতি আস্থার সংকট, ক্রমবর্ধমান পণ্যমূল্য এবং রাজনৈতিক-সামাজিক অস্থিরতার কারণে মানুষের মধ্যে নগদ টাকা ধরে রাখার প্রবণতা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, ব্যাংক খাতের আস্থার সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে অস্থিরতা জ্বালানি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে। এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও পণ্যমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতির সময় মানুষের হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়ে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বা ব্যাংক খাতে অস্থিরতা দেখা দিলে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অর্থ নিজের কাছে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, টাকার প্রবাহ বাড়লে মূল্যস্ফীতিও বাড়ে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রায় ১২ শতাংশ কমলেও গত এক বছরে তা তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতি ডলারের মূল্য ছিল ১২২ টাকা, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ১২২ দশমিক ৫৬ টাকায়। তবে বাজারে টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে মানুষের হাতে নগদ টাকা বাড়লেও অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে নিম্ন আয়ের মানুষ পড়ছেন চরম